হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল গণতান্ত্রিক পথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। কিন্তু সেই আন্দোলন শনিবার মহানগরীতে অশান্তি তৈরি করল। পুলিশের লাঠির আঘাতে অভয়ার মায়ের মাথার একপাশে কপালে আঘাত লাগলো। কপালের ওপর বেশ কিছুটা অংশ ভুলে গিয়েছে। অভয়ার বাবাও আক্রান্ত পুলিশের লাঠিতে। সেই সঙ্গে আরো ছয় জন আন্দোলনকারী গুরুতর জখম।এদের প্রত্যেককেই বাইপাসের ধারে মেডিকা হাসপাতলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। অভয় মায়ের আঘাত সব থেকে গুরুতর তার সিটি স্ক্যান হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা মত এদিন কোন রাজনৈতিক পতাকা না নিয়ে নবান্ন অভিযান শুরু হয় ধর্মতলার জরিনা ক্রসিং এর কাছ থেকে। এই অভিযানে সামনের সারিতে ছিলেন অভয়ার বাবা এবং মা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিদায় অগ্নিমিত্রা পাল বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচি সহ একাধিক নেতা। তবে প্রত্যেকের হাতেই কমবেশি ছিল জাতীয় পতাকা। শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতারা যে শ্লোগান দিতেন অর্থাৎ দফা এক, দাবি এক, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। এই স্লোগান তুলেই মিছিল কারীরা এগিয়েছে। বিশাল ব্যানারেও লেখা ছিল এই স্লোগানই। বিজেপি নেতৃত্ব ছাড়া এই মিছিলে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের দেখা যায়নি। যদিও অভয় এর বাবা এবং মা দাবি করেছিলেন
দলমত নির্বিশেষে দলীয় পতাকা ছাড়া আপনারা প্রত্যেকেই নবান্ন অভিযানে যুক্ত হন। আমার মেয়ের ন্যায় বিচারের জন্য। বিজেপি সাড়া দিলেও অন্য কোন রাজনৈতিক দল দেয় নি।
জরিনা ক্রসিং থেকে মিছিল এগিয়েছে পার্ক স্ট্রিট হয়ে নবান্নর পথে। কিন্তু পার্ক স্ট্রিট মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড করে মিছিল কারীদের পথ আটকায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি। অভয়ার বাবা পুলিশকে বলেন আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে নবান্নের দিকে যাচ্ছি। আপনারা কেন পথ আটকাচ্ছেন।আমাদের তো আদালত অনুমতি দিয়েছে। অভয়ার বাবার কোন প্রশ্নেরই উত্তর পুলিশ দেয়নি। এরফলে ওখানে চরম অশান্তি তৈরি হয়। ব্যারিকেটে রিপ্রান্তে পুলিশ ও প্রান্তে জনতা। পুরুষের সঙ্গে জনতার শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি।
এই সময় পুলিশ লাঠি চালায় বলে অভিযোগ। অভয়ার মায়ের অভিযোগ তাকে রাস্তায় ফেলে মহিলা পুলিশ লাঠি দিয়ে মেরেছে। তার হাতের শাখা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। দেখা যায় তার কপালে বেশ কিছুটা অংশ ভুলে গিয়েছে লাঠির আঘাতে। অভয়ার বাবাও বলেন তাতেও লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। এরই মধ্যে একটা সময় তারা আন্দোলনকারীকে সঙ্গে নিয়ে রেস কোর্স দিয়ে নবান্নের পথে এগোতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচী। পুলিশ তাদেরও আটকায়। এরপর অভয়ার বাবা এবং মা সহ আন্দোলনকারীদের অনেকেই ওই ব্যারিকেড এর উপর উঠে পড়েন। এখানেও পুলিশ লাকি চালায়। এর মধ্যেই অভারমা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে এবং তার বাবা কে আন্দোলনকারীরা একটি গাড়িতে করে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গাড়িতেই অভয়ের মা ঝিমিয়ে পড়তে থাকেন। তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।মেডিকা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। তিনি এবং অগ্নিমিত্রা পাল পার্ক স্ট্রিট মোড়ে ধর নাই বসে পড়ে ছিলেন। ওখান থেকে তিনি বলেন এই পুলিশ কমিশনার যেভাবে তার বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করল তার জবাব আমরা দেব। যে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে বাংলা জুড়ে তাতে এই সরকার পতনের জন্য আর কয়েক মাস বাকি। এই পুলিশ কমিশনার কে এবং এখানকার অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আমরা ব্যবস্থা নেব। যদিও পুলিশ অভয়ার মাকে এবং বাবাকে লাঠি দিয়ে মারার কথা অস্বীকার করেছে। নবান্ন অভিযান আটকাতেও হাওড়া জুড়ে ছিল কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা। দুই মানুষ সমান লোহার ব্যারিকেড লাগানো হয়েছিল রাস্তায়। একটা সময় হাওড়া ব্রিজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।















