নলহাটি, মুরারই, লাভপুর ও তারাপীঠে নতুন ফায়ার স্টেশন। দ্রুত সুরক্ষার আশায় জেলাবাসী। বীরভূমে এসে জানালেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে তারাপীঠে চালু হতে চলেছে দমকল কেন্দ্র। শুধু তারাপীঠ নয়, নলহাটি, মুরারই এবং লাভপুরেও নতুন দমকল কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত তারাপীঠে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। অথচ, এতদিন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট দমকল কেন্দ্র না থাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে স্থানীয় মানুষদের ভরসা ছিল রামপুরহাট দমকলের উপর। কিন্তু রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ কিংবা নলহাটি-মুরারইয়ের দূরত্ব এতটাই বেশি যে, খবর পৌঁছে দমকল গাড়ি ঘটনাস্থলে আসতে আসতে প্রায় সবকিছু শেষ হয়ে যেত। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন ও ব্যবসায়ীরা সর্বদাই আতঙ্কে থাকতেন। অবশেষে চারটি নতুন ফায়ার স্টেশন তৈরি হওয়ায় জেলাবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। আজ এই বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিতভাবে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে জানান। এরপর দমকলমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘তারাপীঠে দমকল কেন্দ্র চালু হলে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও অনেকটা স্বস্তি পাবেন। একইসঙ্গে নলহাটি, মুরারই ও লাবপুরেও নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্ল্যানিং ও এস্টিমেট সম্পূর্ণ হয়েছে।”মন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার নতুন দমকল কর্মী নিয়োগ করা হবে। যদিও ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত। মন্ত্রী হাস্যরসে বলেন, “কৌশিকী অমাবস্যায় এখানে পুজো দিতে আসতে পারিনি। তাই আজ তারাপীঠে পুজো দিয়ে এই খুশির খবর দিলাম।”স্থানীয় মানুষদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে।
তারাপীঠের ব্যবসায়ী মহাদেব ঘোষ বলেন, “মন্দির এলাকায় ভিড় তো লেগেই থাকে। আগুন লাগলে এতদিন আমরা দমকল আসার অপেক্ষায় আতঙ্কে থাকতাম। এখন হাতের কাছেই কেন্দ্র হবে, তাই অনেকটা নিশ্চিন্ত।” নলহাটীর বাসিন্দা ছায়া মণ্ডল বলেন, “আমাদের গ্রামে দু’বার অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল। রামপুরহাট থেকে গাড়ি আসতে আসতেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এবার অন্তত আশা জাগল, বিপদে পাশে পাব দমকলকে।”মুরারইয়ের বাসিন্দারা জানান, এতদিন তারা আগুন লাগলে নিজেদের উদ্যোগে গ্রামের লোকজন মিলে ছোটোখাটো অগ্নিকাণ্ড নেভানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয়ে কার্যত অসহায় হয়ে পড়তে হতো। এবার নতুন ফায়ার স্টেশন চালু হলে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে।
পর্যটকদের কাছেও এটি বড় খবর। পূণ্যার্থী দম্পতি কলকাতা থেকে আসা অর্পিতা ও সুমন দাসের কথায়, “আমরা প্রায়ই তারাপীঠে আসি। এখানে এত ভিড়, এত দোকান—যে কোনও সময় দুর্ঘটনা হতে পারে। এখন কাছেই দমকল থাকবে ভেবে নিরাপদ লাগছে।”বীরভূমের এই চারটি নতুন দমকল কেন্দ্র চালু হলে শুধু তারাপীঠের পর্যটন নয়, গ্রামের মানুষের জীবিকা, দোকানপাট ও ঘরবাড়ির সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।















