মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড যত্ন করে রাখুন। যাঁদের নেই তাঁরা এপিক বানিয়ে রাখুন, ওটা রাখলেই হবে। তিনি যে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার বিরুদ্ধে এদিন ফের তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেপালে ইতিমধ্যেই ১৯ জনের প্রাণ গিয়েছে। পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেপাল আমার দেশ নয়, এটা বিদেশি রাষ্ট্র। এই ব্যাপারে কথা বলতে পারি না। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের কিছু বললে বলতে পারি। কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি দেখছে, আমার অনুরোধ থাকছে সীমান্ত এলাকায় নজর রাখুন।
কোনো গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়বেন না, শান্তি ফিরে আসুক। আমরা মনে করি প্রতিবেশী ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। আর কেউ হঠাৎ করে ঝুঁকি নিয়ে নেপালে যাবেন না। আমাদের না জানিয়েও যাবেন না। কাল চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা বিলি-সহ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী জলপাইগুড়ির উত্তরকন্যা সচিবালয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করবেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এই সফরে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জলপাইগুড়িতে ১৫০ কোটি টাকার পানীয় জল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তা নদী থেকে জল এনে জলপাইগুড়ি শহরের প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে।
একই সঙ্গে, এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে তিনি দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কৌশল এবং নির্বাচনী প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। ১১ সেপ্টেম্বর জলপাইগুড়ির এবিপিসি মাঠে একটি জনসভায়ও তিনি ভাষণ দেবেন, যা আগামী নির্বাচনের জন্য দলের জনসমর্থন বাড়াতে সাহায্য করবে।













