ক্যালেন্ডারের পাতায় বড়দিন আসার আগেই শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু হলো তিলোত্তমায়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের ঝঞ্ঝা কাটতেই হু হু করে ঢুকতে শুরু করেছে উত্তুরে হাওয়া। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একধাক্কায় নেমে দাঁড়াল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চলতি মরশুমে এটাই শহরের শীতলতম দিন। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর পারদ ছুঁয়েছিল ১৪.৫ ডিগ্রি। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, শনিবার রাতের পর রবিবারের এই পারপতন গত ১৫ দিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। কনকনে ঠান্ডার আমেজ গায়ে মেখেই ছুটির দিনে উৎসবের মেজাজে মাতল গোটা শহর। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক শীতের নেপথ্যে রয়েছে জোড়া কারণ।
বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ভারতের ঝঞ্ঝাটি দুর্বল হওয়ায় শীতল বাতাসের পথে বাধা সরে গিয়েছে। পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে একটি শক্তিশালী ‘জেট স্ট্রিম’ বা দ্রুতগামী বায়ুস্রোত তৈরি হয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উঁচুতে থাকা এই বাতাস নীচে নেমে আসায় মধ্য ও পূর্ব ভারতে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মেঘের আস্তরণ সরে যাওয়ায় দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে ৫.২ ডিগ্রি কমে গিয়েছে। ফলে ভরদুপুরেও রোদে পিঠ দিয়ে বসে থাকতে সমস্যা হচ্ছে না শহরবাসীর।
আবহাওয়ার এই ভোলবদলকে সঙ্গী করেই রবিবার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদিন দর্শক সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সায়েন্স সিটিতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ। পিছিয়ে নেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালও। সেখানে একদিনে ২৬ হাজার ৭০৫টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। বড়দিনের আগে এমন ‘পিকনিক ক্লাইমেট’ পেয়ে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। বেলা বাড়লেও শহরবাসীকে সোয়েটার বা গরম পোশাক খুলে রাখতে হয়নি।
শহরের বিনোদন পার্ক থেকে শুরু করে বিড়লা তারামণ্ডল সর্বত্রই এখন ‘ক্রিসমাস উইক’-এর মেজাজ। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস যদি সত্যি হয়, তবে আগামী কয়েক দিন এই শীতের আমেজ বজায় থাকবে। মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ আর উত্তুরে হাওয়ার দাপটে বড়দিনের আগেই কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে জাঁকিয়ে শীত উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। শীতের এই কামড় বজায় থাকলে আগামী দিনগুলিতে ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলির অধিকর্তারা।














