Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

পাতা পুড়িয়ে দূষণ নয়, চাই সার, পুরসভাকে দাওয়াই পরিবেশবিদদের

পাতা পুড়িয়ে দূষণ নয়, চাই সার, পুরসভাকে দাওয়াই পরিবেশবিদদের

শীতের শহরে ধোঁয়াশা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল পরিবেশ সংগঠনগুলি। যত্রতত্র শুকনো পাতা পোড়ানোর ফলে কলকাতার বাতাসের গুণমান আশঙ্কাজনকভাবে নামছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়া রুখতে অভিনব এক সমাধান নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দ্বারস্থ হল পরিবেশ সংগঠন ‘পাবলিক’। তাঁদের প্রস্তাব, পাতা না পুড়িয়ে তা দিয়ে তৈরি হোক উন্নত মানের জৈব সার।

 

এতে যেমন দূষণ কমবে, তেমনই লক্ষ্মীলাভ হবে পুরসভার। দিল্লির ধাঁচে কলকাতার আকাশেও এখন মাঝেমধ্যেই ধূসর পর্দার হাতছানি। সমীক্ষা বলছে, ধান কাটার পর জমিতে গোড়া পোড়ানো যেমন দিল্লির মাথাব্যথার কারণ, কলকাতার ক্ষেত্রে ঠিক তেমনই ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে গাছের শুকনো পাতা পোড়ানো। মূলত সাফাই কর্মীদের একাংশই এই কাজ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, আগে পরিকাঠামোর অভাব থাকলেও এখন কলকাতা পুরসভার হাতে আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে।

 

তাই এই পুরনো ও ক্ষতিকর প্রথা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। পরিবেশ সংগঠনের তরফে মেয়র এবং উদ্যান ও পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদকে পাঠানো চিঠিতে নাগরিক উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শহরের প্রতিটি পার্কে বা বড় আবাসনের নির্দিষ্ট কোণে একটি করে গর্ত করা হোক। ঝরে পড়া পাতা সেখানে স্তূপ করে রেখে তাতে জল দিলে তা ধীরে ধীরে মূল্যবান সারে পরিণত হবে। এই সার রাসায়নিকের চেয়েও গুণগত মানে অনেক ভালো। বর্তমান সময়ে ছাদ-বাগান বা বারান্দায় গাছ লাগানোর শখ বাড়ছে মানুষের।

 

ফলে বাজারে এই সারের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এটি বিক্রি করে পুরসভা নিজের আয় বাড়াতে পারে। পরিবেশকর্মী বনানী কক্করের কথায়, অতীতে এই ধরণের উদ্যোগ সচেতনতার অভাবে সফল হয়নি। মানুষ ওই সব গর্তে জঞ্জাল ফেলতে শুরু করত। তাই এবার কড়া নজরদারির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। উদ্যান বা সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

 

শীতকালীন দূষণ মোকাবিলায় এই পথ যে সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত, সেই দাবিই করছেন পরিবেশবিদেরা। কলকাতা পুরনিগম অবশ্য এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। পুরসভার এক আধিকারিকের মতে, প্রস্তাবটি যথেষ্ট গুরুত্ববহ। তবে বিষয়টি নিয়ে আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এর সুবিধা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলি খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত বিষবাষ্প রুখতে শহরের সচেতন নাগরিকদের এই পরামর্শই এখন পুরসভার টেবিলে বড় চর্চার বিষয়।

READ MORE.....