পুজোর আগমুহূর্তে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আনন্দের প্রতীক্ষা ভেঙে দিয়ে কফিনে বন্দি অবস্থায় ফিরলেন সুব্রত বিশ্বাস (৩৬) । ঘটনাটি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ সীমান্ত লাগোয়া হুদো দিগম্বরপুর গ্রামের। তরতাজা যুবক সুব্রত বিশ্বাস (৩৬),পেশায় বিএসএফ কর্মী। সুব্রতবাবুর অকাল মৃত্যুতে একেবারে স্তব্ধ পরিবার ও গোটা গ্রাম। সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ সেনা জওয়ানকে গার্ড অফ অনার দিয়ে কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে পৌঁছাতেই ভেঙে পড়ে পরিবার। স্ত্রী শুলেখা বিশ্বাস অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হতচকিত দুই সন্তান সুমিত (১৩) ও নাহি (৫) বাবাকে হারিয়ে নির্বাক। শেষকৃত্যের জন্য পরে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
সুব্রত বিশ্বাস মেঘালয়ের ১৮৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ইকো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ এক বছর পর পুজোতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। মহালয়ার দিন পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের। ছেলে–মেয়েরা বাবাকে নিয়ে আনন্দ করার পরিকল্পনা করছিল। স্ত্রীও স্বামীকে ঘিরে পুজোর রান্নাবান্নার আয়োজন শুরু করেছিলেন। গত বছর এসে উঠতে না পারলেও এ বছর একসঙ্গে ঠাকুর দেখা ও পুজোর বাজার করার আশা ছিল সবার।
পরিবার সূত্রে খবর, ১৯ তারিখ রাত ন’টা নাগাদ সুব্রতবাবু ট্রেনে ওঠেন। স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি মালদায় নামবেন এবং ২০ তারিখ সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাবেন। সেটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা। কিন্তু গভীর রাতে সুব্রতবাবুর দুই বন্ধু বাড়িতে ফোন করে জানান, তার সমস্ত জিনিসপত্র গায়ের জুতো পর্যন্ত রেখেও তিনি ট্রেনে আর নেই। এতে উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের। সকালেই নানাভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরে জানা যায়, গাড়ি ছাড়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই নিউ কোচবিহার রেললাইনের পাশ থেকে সুব্রতবাবুর দেহ উদ্ধৃত হয়। রেলক্রসিংয়ের কর্মীরা দেহটি দেখতে পান এবং আশঙ্কা করেন যাত্রাবেলায় দুর্ঘটনাবশত ট্রেন থেকে পড়ে গেছেন তিনি। এরপর খবর পৌঁছায় সহকর্মী বিএসএফ জওয়ানদের কাছে।
সোমবার বিকেলে সেনার গাড়িতে দেহ আনা হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনেরা। পুজোর আনন্দ মুহূর্তে চূর্ণবিচূর্ণ। প্রতিশ্রুত আগমনের বদলে কফিনবন্দি অবস্থায় বাড়ি ফেরা সুব্রত বিশ্বাসের মৃত্যু শোকের সাগরে ডুবিয়ে দিল এক অখণ্ড পরিবারকে।















