Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণায় স্থগিতাদেশ আদালতের

পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণায় স্থগিতাদেশ আদালতের

বহুপ্রতীক্ষিত পুরভোটের দিনক্ষণ আপাতত ঘোষণা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যার ফলে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন নিয়ে তৈরি হল নতুন জটিলতা। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। শুক্রবার এমনই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে নির্দেশ দিয়েছে যে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের নির্ঘণ্ট জারি করা একেবারেই বন্ধ থাকবে। মূলত রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরেই তৈরি হয়েছে এই অনিশ্চয়তা। আগে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৪৪টি, যা হঠাৎ বাড়িয়ে ২০৯টি করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল।

 

কিন্তু আইন মেনে জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক সামঞ্জস্য বজায় রেখে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়নি এবং কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন কসবার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা দীপু দাস। মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করে জানান, পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পর পুর কমিশনারের একা একা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার কোনও আইনি ক্ষমতাই নেই। অথচ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যুক্তি, কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর সুপারিশকে নির্বাচিত পুরবোর্ডের সুপারিশ বলে গণ্য করা যায় না। পুর আইন অনুযায়ী, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে পুরসভার সুপারিশ প্রয়োজন। সেখানে নির্বাচিত বোর্ড না থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য এই মামলায় রাজ্য সরকারকে হলফনামা দেওয়ার জন্য ৪ সপ্তাহ এবং মামলাকারীকে উত্তর দেওয়ার জন্য ২ সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন। তবে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি।

 

মামলাকারী পক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান যে, ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করলে মামলা চুকে যাওয়ার আগেই ভোটপর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং মামলার কোনও প্রাসঙ্গিকতাই থাকবে না। শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে এই যুক্তিতে সায় দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়, সিঙ্গল বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আইনি জটিলতার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনওভাবেই পুরসভার ভোটের সূচি ঘোষণা করতে পারবে না কমিশন। রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র পালটা দাবি করেন, বর্ধিত ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশের সময় আইন অনুযায়ী আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কেউ কোনও আপত্তি তোলেননি। তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে ডিভিশন বেঞ্চ পুরভোট ঘোষণার ওপর কড়া স্থগিতাদেশ জারি করে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে মামলার জেরে কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভায় আপাতত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

READ MORE.....