মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক ফুটবলে। নিরাপত্তাহীনতা ও যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতার জেরে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ প্রায় এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। আয়োজক দেশ সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে জানিয়েছে এএফসি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে সৌদিতে টুর্নামেন্ট শুরুর কথা ছিল।
কিন্তু ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে নতুন দিনক্ষণ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৭ থেকে ২১ জানুয়ারি, ২০২৮ সময়সীমা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দিন পরিবর্তনের এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ফিফার কাছে পাঠানো হচ্ছে। এএফসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া পরিবহন ও যাতায়াত সমস্যার কথা মাথায় রেখেই অংশগ্রহণকারী সমস্ত দল, কর্মকর্তা এবং ফুটবলপ্রেমীদের স্বার্থে এই প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিয়াদ, জেদ্দা ও খোবার— এই তিন শহরের আটটি স্টেডিয়ামে মোট ২৪টি দেশকে নিয়ে মাসব্যাপী এই আসর বসার কথা ছিল। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধপীড়িত ইরানও। তবে স্থানীয় আয়োজকরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি নির্ধারিত সময়ে করার চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এই অশান্তির জেরে শুধু এশিয়ান কাপই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে। সম্প্রতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের ম্যাচ চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল আল-নাসেরের খেলা বিঘ্নিত হয়। এমনকী রিয়াধে অনুষ্ঠিত হতে চলা মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী ডব্লিউটিএ টেনিস ফাইনালও বাধ্য হয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্ডিয়ান ওয়েলসে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে বড়সড় ধাক্কা লাগল।













