রাজ্যে পুলিশ কর্তাদের পর এ বার কোপ পড়ল আমলাতন্ত্রে। বিধানসভার নির্বাচনে নির্ঘণ্টের পর জারি হয়েছে রাজ্যে আদর্শ আচরণ বিধি তারপর থেকে একের পর এক প্রশাসনে রদবদল ঘটাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে সরিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে । সোমবার রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে । মঙ্গলবার মোট ১২ জেলার পুলিশ সুপারকে বদল করেছে কমিশন । বুধবার সকালে রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজিকে অপসারিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে আনা হয়েছে নতুন মুখ। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে এই নতুন আধিকারিকদের কাজে যোগদানের সম্মতিসূচক রিপোর্ট পাঠাতে হবে। ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অপসারিত পাঁচ কর্তাকে নির্বাচনী কোনও কাজে নিয়োগ করা যাবে না। তারপর বেলা গড়াতেই দেখা যায় এক ধাক্কায় রাজ্যের এগারোটি জেলার জেলাশাসক (ডিএম) তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে সরিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এই তালিকায় বাদ যাননি কলকাতার পুর কমিশনার এবং দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-ও। কমিশনের এই নজিরবিহীন কোপ পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চাল দিল নবান্ন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন পদে অপসারিত ১৯ জন আইপিএস আধিকারিককে নতুন দায়িত্ব দিয়ে নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। বুধবার বিকেলের এই জোড়া চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এবং আমলাতন্ত্রে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের এগারোটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। কোচবিহারের নতুন জেলাশাসক হয়েছেন জিতেন যাদব। জলপাইগুড়িতে দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদহে রাজনবীর সিংহ কপূর এবং মুর্শিদাবাদে আর অর্জুনকে পাঠানো হয়েছে।
নদিয়ায় শ্রীকান্ত পাল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যথাক্রমে শিল্পা গৌরিসারিয়া ও অভিষেক কুমার তিওয়ারিকে ডিএম হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাহাড়ে দার্জিলিং জেলায় হরিচন্দ্র পানিকর এবং আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও নিয়ম বদলে পুর কমিশনার অংশুল গুপ্তের জায়গায় উত্তর কলকাতার ডিইও করা হয়েছে স্মিতা পাণ্ডেকে। দক্ষিণ কলকাতায় নতুন ডিইও হিসেবে রণধীর কুমারকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই নবান্ন দ্রুত পদক্ষেপে অপসারিত পুলিশ কর্তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। মঙ্গলবারই কমিশনের নির্দেশে একঝাঁক পুলিশ সুপার ও কমিশনার অপসারিত হয়েছিলেন। বুধবার নবান্নের জারি করা তালিকায় দেখা যাচ্ছে, কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে অপসারিত ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সিআইডির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট করা হয়েছে। এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) রাজীব মিশ্রকে পাঠানো হয়েছে এডিজি (সংস্কার ও সমন্বয়) পদে। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী এবং আসানসোল-দুর্গাপুরের প্রাক্তন কমিশনার সুনীল কুমার চৌধরিকে এসটিএফ-এর আইজি হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্য। আইজি (উত্তরবঙ্গ) সুকেশকুমার জৈনকে আইবির আইজি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও হাওড়া ও চন্দননগরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া এবং কোটেশ্বর রাওকে আইবির ডিআইজি পদে আনা হয়েছে। ইসলামপুর, মালদহ, বীরভূম, হুগলি (গ্রামীণ), মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপারদের আইবির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, ডায়মন্ড হারবার, কোচবিহার, বসিরহাট এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অপসারিত এসপি-রা এখন থেকে এসটিএফ-এর পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করবেন।
বারাসতের প্রাক্তন এসপি প্রিয়ব্রত রায় হয়েছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক ডিসি। লক্ষ্মীনারায়ণ মীনাকে এডিজি (রেকর্ড ব্যুরো)-র অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যে নতুন জেলাশাসকদের কাজে যোগ দিতে হবে। ভোট মেটা পর্যন্ত অপসারিত কর্তারা নির্বাচনী কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।













