ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেশের রাজধানী। আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লির ‘কর্তব্য পথে’ রচিত হতে চলেছে এক অনন্য নজির। এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কোনো আধাসামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ পুরুষ দলকে নেতৃত্ব দেবেন এক নারী। তিনি জম্মু-কাশ্মীরের কন্যা সিমরন বালা। সিআরপিএফ-এর প্রায় ১৫০ জন পুরুষ জওয়ানের কুচকাওয়াজ দলটির অধিনায়ক হিসেবে রাজপথ কাঁপাবেন এই তরুণী অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট। ভারতের সামরিক ইতিহাসে এর আগে মহিলা জওয়ানদের কুচকাওয়াজ দলকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলেও, সম্পূর্ণ পুরুষ বাহিনীকে নারী শক্তির কমান্ডে কুচকাওয়াজ করতে দেখা যায়নি। সেই নিরিখে ২৬ বছর বয়সি সিমরনই হতে চলেছেন ভারতের প্রথম ‘তুলনাহীনা’।
জম্মুর রাজৌরি জেলার ভারত-পাক সীমান্ত ঘেঁষা ছোট্ট শহর নওশেরা থেকে উঠে আসা এই তরুণী এখন সারা দেশের অনুপ্রেরণা। সিমরন আদতে জম্মুর গান্ধীনগরের গভর্নমেন্ট কলেজ ফর উইমেন থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হয়েছেন। ছোট থেকেই অদম্য জেদ ছিল তাঁর। ২০২৫ সালে ইউপিএসসি পরিচালিত সিএপিএফ পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন তিনি। ওই বছরেরই এপ্রিল মাসে দেশের বৃহত্তম আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ-এ যোগ দেন সিমরন। প্রশিক্ষণের সময়েও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এই তরুণী। গুরুগ্রামের সিআরপিএফ অ্যাকাডেমিতে কঠোর ট্রেনিংয়ের পর তিনি অর্জন করেন ‘সেরা অফিসারের’ তকমা। উল্লেখ্য, গোটা রাজৌরি জেলায় সিমরনই প্রথম মহিলা, যিনি সিআরপিএফ অফিসার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর প্রথম কর্মস্থলও ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত ‘বস্তারিয়া’ ব্যাটালিয়নে পোস্টিং পেয়ে শুরুতেই নকশালবিরোধী অপারেশনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
আগামী ২৬ জানুয়ারি রাইসিনা হিল থেকে ইন্ডিয়া গেট হয়ে লালকেল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত কুচকাওয়াজে দেশের সামরিক সংহতির এক নতুন রূপ তুলে ধরবেন সিমরন। কুচকাওয়াজে এ বারও থাকছে নানা আকর্ষণ। সিমরনের নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজপথে ঝড় তুলবে রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট। সিআরপিএফ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) মহিলা ‘ডেয়ার ডেভিল্স’দের একটি যৌথ দল বাইকে চড়ে দুঃসাহসিক কসরত প্রদর্শন করবে। এর আগেও ২০২০ সালে এই দুই বাহিনীর মহিলারা এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। এ ছাড়াও এ বছরের আয়োজনে থাকছে উটের পিঠে বিএসএফ জওয়ানদের কুচকাওয়াজ এবং সিআইএসএফ-এর বিশেষ ব্যান্ড দল। তবে সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন সিমরন বালা। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর এই অভাবনীয় যাত্রার কথা। ভারতের নারী শক্তি যে এখন পুরুষ বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে দিকনির্দেশ করতে প্রস্তুত, সিমরনের হাত ধরে কর্তব্য পথে সেই বার্তাই পৌঁছে যাবে গোটা বিশ্বের কাছে।















