Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ফাঁকা খাতা জমা দিয়েই পুরসভায় চাকরি, সিবিআইয়ের চার্জশিটে দুর্নীতির হাড়হিম তথ্য

ফাঁকা খাতা জমা দিয়েই পুরসভায় চাকরি, সিবিআইয়ের চার্জশিটে দুর্নীতির হাড়হিম তথ্য

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পেশ করা চূড়ান্ত চার্জশিট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্রেফ সাদা খাতা জমা দিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন শতাধিক প্রার্থী। উত্তর থেকে দক্ষিণ— বিস্তীর্ণ এলাকার আটটি পুরসভায় এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির জাল ছড়িয়ে ছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগ্যতা নয়, বরং ওএমআর শিট ফাঁকা রেখে বা পরীক্ষার ফলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলেছে এই বিশাল কারবার।

 

তদন্তকারীদের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি চক্রের কাজ। সিবিআই সূত্রে খবর, পেশ করা চূড়ান্ত চার্জশিটে বিশেষ করে উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি ও বরানগর পুরসভার নাম উঠে এসেছে। এছাড়াও টিটাগড়, হালিশহর, বনগাঁ এবং রানাঘাট পুরসভাতেও ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। এই আটটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৬০০-র বেশি বেআইনি নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যে পদের জন্য প্রার্থী আবেদন করেছিলেন, তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য পদে নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগ বিধির এমন নজিরবিহীন লঙ্ঘনে হতবাক দুঁদে তদন্তকারীরাও।

 

মেধার কোনও স্থান ছিল না এই প্রক্রিয়ায়, বরং নেপথ্যে কাজ করেছে টাকার লেনদেন ও প্রভাবশালীদের হাত। তদন্তের মূলে রয়েছেন প্রোমোটার অয়ন শীল। ইডির হাতে তাঁর গ্রেফতারির পরই আলমারি থেকে বেরোতে থাকে একের পর এক কঙ্কাল। অয়নের অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল তথ্য ও নথিপত্র থেকেই পুর নিয়োগ দুর্নীতির এই পাহাড়প্রমাণ তথ্য হাতে এসেছে। এই মামলায় বারবার শিরোনামে এসেছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সম্প্রতি তাঁর দফতর, রেস্তরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক ঠিকানায় হানা দিয়ে ইডি একাধিক ডায়েরি ও সন্দেহভাজন লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করেছে। মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এই বিপুল আর্থিক নয়ছয়ের কিনারা করতে।

 

চার্জশিটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরীক্ষার খাতা পরীক্ষা না করেই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছিল। কোথাও আবার ওএমআর শিটে কারচুপি করে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় শাসকদলের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতার যোগসাজশ ছিল বলে সিবিআইয়ের অভিযোগ। অয়ন শীলের মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা কোথায় পৌঁছেছে, এখন তারই হদিস পেতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা। চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ হওয়ার পর এবার আদালতের নির্দেশে মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।

READ MORE.....