প্রায় একদিন বিশ্রাম নেওয়ার পর তারানগরে ফের খেপে উঠল পদ্মা। ঘন্টা দুয়েকের পদ্মার রোষে তলিয়ে গেল ১৪টি বাড়ি। যে কোনও সময় ভাঙনের কবলে পড়ে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আরও ৯ টি বাড়ি। এই পরিস্থিতিতে ফের হাহাকার উঠেছে লালগোলা থানার বিলবোরাকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তারানগর গ্রামে। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে এতবড় ভাঙনের তান্ডবলীলা চললেও এলাকায় দেখা মেলেনি নদী বিশেষজ্ঞ কিংবা কোনও প্রকৌশলীর।
অবশ্য জেলা পরিষদের এক সদস্য ভাঙন এলাকায় পৌঁছিয়ে স্থানীয় বিডিওকে সামনে রেখে দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের হাত পা বাঁধা। এখন উপর ওয়ালাই ভরসা। কয়েক বছর ধরেই পদ্মা ধীরে ধীরে সরে আসছে পূর্ব পারের লালগোলার দিকে। তবে গত ১৫ আগষ্ট থেকে পদ্মা তারানগর এলাকায় যে ভাঙন ধরিয়েছে তা অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কোনও ভাবেই যেন পদ্মার রোষ কমছে না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ নতুন করে তারানগরে ভাঙন শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯ পর্যন্ত নাগাড়ে একেরপর এক বাড়ি তলিয়ে যেতে থাকে। পদ্মা যখন ঝিম মারে ততক্ষণে ১৪ টি আস্ত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। পদ্মায় ঝুলতে থাকে অন্তত আরও ৯ টি বাড়ি।
খবর পেয়ে রাতেই তারানগরে পৌঁছান লালগোলা থানার ওসি অতনু দাস এদিকে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ২৫ টি পরিবার বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নেয় খোলা আকাশের নীচে এলাকার একটি আম বাগানে। এদিকে রাতের অন্ধকারকেও হার মানায় মানুষের হাহাকার আর আর্ত চিৎকার। বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পর সোলেমান শেখ বলেন, ‘ভেবেছিলাম বাড়ি টুকু বাঁচবে, শেষ সম্বলটুকুও চলে গেল। এখন গোটা পরিবারকে নিয়ে পথের ভিখারিতে পরিনত হলাম।’ রাতে পুলিশ ছাড়া প্রশাসনিক কোনও কর্তার দেখা পাওয়া যায়নি এলাকায় এই অভিযোগ তুলে ভাদু শেখ বলেন, ‘সারারাত বাচ্চা ও বয়স্কদের নিয়ে নির্ঘুম ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে কাটল কেউ কোনও খোঁজ নিল না।’ এরই মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নদী ভাঙন নিয়ে সরকারের কি কোনও ভাবনা চিন্তা নেই।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নদী বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারেনা কী। বুধবার সকালে স্থানীয় বিডিওর উপস্থিতিতে জেলা পরিষদের সদস্য রুমা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মানুষের হাত পা বাঁধা। এখন ভরসা একমাত্র উপরওয়ালা।’ অবশ্য বিডিও দেবাশীষ মন্ডল বলেন, ‘কিছু পরিবারকে তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং কিছু জনকে শেখআলীপুর হাই স্কুলে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শিবিরে আশ্রয় নেওয়াদের খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।’ ভাঙন রোধের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিডিও অবশ্য কিছু বলতে চাননি। এদিকে যারা নদী পাড়ে এখনও শেষ সম্বল আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা আবেদন রেখেছেন অন্তত তাদের যেন শুকনো খাবার দেওয়া হয়।













