ঘড়ির কাঁটা আর ক্যালেন্ডারের হিসেব মিলিয়ে শহর জুড়ে বইপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৪টেয় সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে উদ্বোধন হবে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার। উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছরের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা।
উদ্বোধনী মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। মেলা উপলক্ষে সব মিলিয়ে ১০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী থাকছেন। এ বছর বইমেলা প্রাঙ্গণে মেট্রোর সরাসরি সংযোগ থাকায় ভিড় নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে আয়োজকদের। এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ আর্জেন্টিনার স্থাপত্যের আদলে তৈরি দুটি তোরণ।
পাশাপাশি প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় এবং শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে দুটি গেট উৎসর্গ করা হয়েছে। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে একটি তোরণ ও কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন থাকছে। শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিশু মণ্ডপটি তাঁর নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। এছাড়াও ভূপেন হাজারিকা এবং সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ পালিত হবে যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি বিশেষ আলোচনা ও সঙ্গীতের মাধ্যমে। ৩০ জানুয়ারি প্রবীণদের জন্য ‘চিরতরুণ’ দিবস এবং ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে শিশু দিবস। পরিবহন ব্যবস্থায় এবারের বইমেলা এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সরাসরি মেট্রোর মাধ্যমে পৌঁছানো যাবে মেলা প্রাঙ্গণে। দর্শকদের সুবিধার্থে রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়তি মেট্রো চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছুটির দিনেও মিলবে এই পরিষেবা। মেলা প্রাঙ্গণে বিশেষ মেট্রো বুথ থেকে ইউপিআই ব্যবহার করে টিকিট কাটা যাবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মেলাকে সহজতর করতে থাকছে বিশেষ অ্যাপ। গুগল লোকেশনের সাহায্যে মেলার যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়া যাবে। গেটে রাখা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ।
প্রবীণদের জন্য থাকছে মুদ্রিত ম্যাপের সুবিধাও। বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে থাকছে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি এবং ব্রডব্যান্ড পার্টনার মেঘবেলা ব্রডব্যান্ড। স্বাস্থ্য পরিষেবায় থাকছে পিয়ারলেস হসপিটেক্স। এছাড়া স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, এইচডিএফসি ইআরজিও এবং ন্যাশনাল জুট বোর্ড মেলার বিভিন্ন বিভাগ সামলাচ্ছে। ‘বই কিনুন লাইব্রেরি জিতুন’ লটারির মাধ্যমে পাঠকরা উপহার হিসেবে পাবেন বুক কুপন। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি। কিউরেটর মালবিকা ব্যানার্জী জানিয়েছেন, এ বছর সাহিত্যের এই আসরে থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা।















