বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জেরে প্রায় দেড় হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থক দল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি। বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই দলবদল ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দলত্যাগীদের একাংশ। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।
বুধবার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার মুরারীশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরারীশাহ চৌমাথা এলাকায় একটি বড় যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানেই আইএসএফ প্রার্থী মুসা কারিমুল্লার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগদানকারীদের মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মুখও রয়েছেন। ফলে এই দলবদল আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দলত্যাগীদের দাবি, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এবং বসিরহাট লোকসভা এলাকায় বারবার বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার কারণে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। হাসনাবাদের তৃণমূলের এক বিদায়ী সংখ্যালঘু নেতা বলেন, আমরা বহু বছর ধরে দলের হয়ে কাজ করেছি। কিন্তু স্থানীয়দের গুরুত্ব না দিয়ে বাইরের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অন্যদিকে, এই যোগদানকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে আইএসএফ। দলের প্রার্থী মুসা কারিমুল্লা বলেন, এক সময় বসিরহাট উত্তর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু এখন মানুষ পরিবর্তন চাইছে। আইএসএফ সেই বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।
যোগদান কর্মসূচির পর নতুন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় জনসংযোগ ও বাড়ি বাড়ি প্রচারও চালান তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় তৃণমূলের সংগঠন কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, এই দলবদলের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।















