সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত বাংলায় একশ দিনের প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি কেন? রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে ১০০ দিনের প্রকল্প বাবদ প্রায় ৪৬০০ কোটি টাকা বকেয়া থাকার যে দাবি তোলা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার?’ এমন প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লিখিত হলফনামা দাবি করল কলকাতা হাইকোর্ট।
রাজ্যে অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের বকেয়া প্রায় ৪৬০০ কোটি টাকা এখনই প্রাপ্য। সেই বকেয়া টাকা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে হলফনামায়। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের হলফনামা তলব করেছে আদালত। ৬ সপ্তাহ পর ফের মামলার শুনানি। কাজ শুরু করতে কোনও আইনি বাধা নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। তাই ‘যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু হোক।’ মন্তব্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রকল্পের বকেয়া টাকা সংক্রান্ত হলফনামা আদানপ্রদানের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু সম্প্রতি সেই মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর শুক্রবার ফের একবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দিল হাইকোর্ট। আদালত এদিন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রকল্পের পুনরায় সূচনায় দেরি করলে আদালত কড়া অবস্থান নেবে।
ফলে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত স্পষ্ট। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী জানান, ‘প্রকল্পের কাজ শুরু করতে এখন আর কোনও বাধা নেই।’
গত মাসের শেষের দিকেই এই মামলাতে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
প্রায় তিন বছর ধরে রাজ্যে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ। তৃণমূল সরকারের দাবি কেন্দ্র ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রকল্পের অর্থ আটকে রেখেছে। কেন্দ্রের দাবি, রাজ্যে এই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে টাকা লুঠ করেছে তৃণমূল। একাধিক কেন্দ্রীয় দল এসেছে তদন্তের জন্য। কিন্তু একজনকেও এখনও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুর্নীতি হয়েছে এই অভিযোগ তুলে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখে কেন্দ্রীয় সরকার।














