শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন। একই দিনে বহরমপুরের বানজেটিয়ার মনীন্দ্রনগর এলাকায় বিজেপির উদ্যোগে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হয়। উভয় ধর্মীয় নির্মাণকে ঘিরে রাজ্যের শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে।
সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মসজিদ নির্মাণের জন্য মোট ৩০০ কোটি টাকা বাজেটের কথা জানিয়েছেন। এই বিপুল অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি অনুদানের কথা বলেন।
ভিত্তিস্থাপনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর জানান, ভারতের এক অনেক বড় শিল্পপতি তাঁকে ফোন করে মসজিদ নির্মাণে ৮০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নির্মাণকাজ আটকাতে এলে তিনি শহিদ হবেন বলেও হুঙ্কার দেন। তিনি বলেন, কেউ যদি এই মসজিদের ইট খুলতে আসে শহিদ হব তাও এর একটা ইটও খুলতে দেব না। মুর্শিদাবাদের মাটিতে উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশ থেকে এসে কেউ ইট খোলার চেষ্টা করবে, হতে দেব না।
অনুদানের আশ্বাস পাওয়ার পর তাঁর আরও হুঙ্কার, এরপর কে রুখবে বাবরি মসজিদ নির্মাণ, কে আটকাবে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ?
বিজেপি নেতার আক্রমণ
বহরমপুরে ‘রাম মন্দির’ নির্মাণের শিলান্যাস করেন বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার। তিনি দাবি করেন, এই দিন থেকেই রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পথচলা শুরু হল। শিলাপুজোর পরে বৃহত্তর পরিসরে ভূমিপুজোর আয়োজন করা হবে।
শিলান্যাসের মঞ্চ থেকে শাখারভ সরকার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, বেলডাঙার মসজিদ নির্মাণ শুধু হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগ নয়, এর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও যুক্ত আছেন।
তিনি জেলার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের খামতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কটাক্ষ, মুর্শিদাবাদে এতদিনে কেন একটিও শিল্প দাঁড়াল না, তার জবাব মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলার কুড়ি জন বিধায়ককেই দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও মসজিদ তৈরির ইস্যুতে মুখ খুলে বড় দাবি করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদে তাঁরা রাম মন্দির করবেন এবং ভবিষ্যতে বড় করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বেলডাঙার মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে যখন বিতর্ক চরমে, ঠিক তখনই বহরমপুরে রাম মন্দিরের শিলান্যাস মুর্শিদাবাদে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করল। উভয় পক্ষই এই নির্মাণগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদল ও কেন্দ্রের ক্ষমতাশীল দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ও পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে, যা আগামী দিনে এই দুই জেলার রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।















