Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচি ঘিরে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক

বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচি ঘিরে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক

বেলডাঙার রেজিনগর এলাকায় তৃণমূল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান ঘিরে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই শিলান্যাসে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হওয়ায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এই জনসমাগমের মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার নির্মাণকাজে বাধা দিলেও তিনি পিছু হটবেন না। প্রয়োজনে শহিদ হবেন, তবুও মসজিদ তৈরি করেই ছাড়বেন বলে হুঙ্কার দেন।

অনুষ্ঠানটির জন্য বেলডাঙার মরাদিঘি এলাকায় এলাহী ব্যবস্থাপনা করা হয়েছিল। রাজ্য তো বটেই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং শোনা যাচ্ছে সৌদি আরব থেকেও ধর্মগুরুরা সহ প্রায় ৪০ জন বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ের কারণে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতাগামী লেনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন থাকলেও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

হুমায়ুন কবীর তাঁর ভাষণে মসজিদ নির্মাণের অধিকারকে সাংবিধানিক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি অসাংবিধানিক কিছু করছি না। যে কেউ মন্দির বানাতে পারে, যে কেউ গির্জা বানাতে পারে, আমি মসজিদ বানাব। এটা কোথাও লেখা নেই যে আমরা বাবরি মসজিদ বানাতে পারব না। সংবিধান আমাদের মসজিদ তৈরির অনুমতি দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়েছে এবং হিন্দুদের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে সেখানে মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি সাগরদিঘিতে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে রাজ্য সরকার বাধা দিলেও তিনি মাথা নত করবেন না এবং মসজিদ তৈরি করেই ছাড়বেন।

মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব সংবিধান বিরোধী বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হলেও, আদালত এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। তবে হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেজিনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ডিএসপি, ইন্সপেক্টর সহ ১০০-এরও বেশি পুলিশ অফিসার এবং র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নজরদারিতে ছিল। এই বিশাল জমায়েতে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য শাহি বিরিয়ানির এলাহি আয়োজন করা হয়েছিল।

হুমায়ুন কবীর জানান, এই মসজিদ চত্বরে একটি ৩০০ শয্যার হাসপাতাল, হেলিপ্যাড, হোটেল ও স্কুলও তৈরি করা হবে, যার জন্য আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তিনি তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর খুব দ্রুত, অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর, নতুন দল ঘোষণা করবেন বলেও মঞ্চ থেকে জানান।

READ MORE.....