শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগে আয়োজিত ‘রণ সংকল্প সভা’ মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে হয়। শুক্রবার এই সভাকে ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। মেদিনীপুর কলেজ মাঠ ভরে গিয়েছিল তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের মন্ত্রী ডাক্তার মানস ভুঁইয়া, শিউলী সাহা, শ্রীকান্ত মাহাতো, বীরবাহা হাঁসদা, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক অজিত মাইতি, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিষয়ক সুজয় হাজরা, সাংসদ জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, কালিপদ সরেন, বিধায়ক দিনেন রায়, দুলাল মুরমু সহ অন্যান্য বিধায়করা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতিরা ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বরা।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা মঞ্চে উপস্থিত সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জীবিত অথচ ভোটার তালিকায় মৃত, এমন তিনজনকে নিয়ে তিনি র্যা ম্পে সকলের সামনে হাজির করেন। সভায় তিনি বলেন, বাংলা কারো কাছে মাথা নত করেনি, আগামী দিনেও করবে না। মেদিনীপুরের মাটি স্বাধীনতা আন্দোলনের মাটি। মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল, বিজেপি খড়গপুর শহর ও ঘাটাল আসনে জয়লাভ করেছিল।
ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয় লাভ করেছিল। এবার ওই দুই জেলার ১৯টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে এবং বিজেপিকে শূন্য করতে হবে। তাঁর জন্য যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন আমাকে বলবেন আমি সেখানেই যাব। নিজেদের বুথকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে কোন বুথে বিজেপি লিড না পায়। বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হবে, কেন্দ্র সরকার ঘাটাল মাস্টারের জন্য দশ পয়সাও দেয়নি। অথচ রাজ্য সরকার ৫০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন সময় লাগবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়িত হবে।
সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপিরতে যোগ দিয়ে জল্লাদ হয়েছে। ওই হার্মাদদের প্রতিহত করতে হবে। যেভাবে সিপিএমের হার্মাদরা, ছোটঅঙ্গারিয়া, বেনাচাপড়া সহ অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে মানুষকে খুন করেছিল, যেভাবে বোমা ও বন্দুক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতো, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সাল থেকে সেই দৃশ্য আর মানুষ দেখতে পায়নি। মানুষ শান্তিতে রয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজ চলছে, কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে বাংলাকে বঞ্চনা করছে তার বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হতে হবে।
তিনি মহিলাদের বলেন, আপনারা লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে চিন্তিত হবেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন বেঁচে থাকবেন লক্ষ্মীর ভান্ডার ততদিন বন্ধ হবে না। আপনারা লক্ষীর ভান্ডারের টাকা প্রতি মাসে পাবেন। নাম না করে রাজ্যের বিরোধী দললতা শুভেন্দু অধিকারী কে গদ্দার বলেও কটাক্ষ করেন। বলেন, সিবিআই-এর হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য গদ্দার অমিত শাহের পায়ে ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, যেভাবে এসআইআর নামে মানুষকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে, তা অতি নিন্দনীয়। ১০৫ বছরের বৃদ্ধ কে ও প্রমাণ করতে হচ্ছে ভারতীয় নাগরিক কিনা। বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশী হয়ে যায় না। যেখানে গুজরাটে এক কোটি এবং উত্তরপ্রদেশে চার কোটি মানুষের নাম বাদ গেছে, তাহলে কারা রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিতো, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কথা বারবার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এদিন তুলে ধরেন।













