পুজোর শেষ মুহূর্তে ঢাকের শব্দে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছেন শহরের বাসিন্দারা। দশমী ও একাদশীর রাত শেষে কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে চেপে কাজে ফেরার পথে। ৩৭৯ দিনের অপেক্ষার পর আবার দীর্ঘ বছর কেটে যাওয়ার মুহূর্ত যেন মনে হলো অল্প সময়ের।
জলপাইগুড়ির শান্তিপাড়ার শৌভিক কর ট্রেনে চেপে ফেরার আগে বন্ধু অর্পণ রায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভালো থাকিস ভাই। পরের পুজোয় দেখা হবে।’ অর্পণ ছলছল চোখে উত্তর দেন, ‘হুম! পৌঁছে কল করিস। কিপ-ইন টাচ।’
পুজোর কয়েকদিনের ভিড়, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া এবং মণ্ডপ ভ্রমণের আনন্দ এখনও প্রবাসীদের মনে আনন্দের সুর বাজাচ্ছে। ম্যাঙ্গালোর থেকে ফিরে আসা প্রীতম দাস বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর রাজবাড়িতে আড্ডা, সন্ধ্যার পর থেকে প্যান্ডেল হপিং—সবই নিমেষে কেটে গেছে।’ অনির্বাণ সরকার ও পায়েল দাসও একই অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অর্ণব গোস্বামীদের গ্রুপে অনেকেই কলকাতার আইটি সেক্টরে কর্মরত। তাদের কথায়, ‘পুজোর কয়েকদিন বন্ধুরা একত্রিত হতে পায়। কাজের ব্যস্ততার মাঝে এটাই একমাত্র সময়। পুজো ছাড়া এমন আড্ডা আর কোথায়?’ প্রীতম দত্ত যোগ করেন, ‘বন্ধুরা কেউ কেউ ইতিমধ্যেই কাজের জায়গায় চলে গেছে। পুজো অল্প সময়ের জন্য আমাদের একত্র করেছে। এবার কিছু দিন মন খারাপ নিয়েই কাটবে।’
শহরের পুজো উৎসব যেন কেবল ধর্মীয় আনন্দই নয়, প্রবাসী ও শহরবাসীর সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করার এক মহাপূরক সময়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।















