মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন আমাকে বিধানসভার বাইরে রেখে ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন। কিন্তু আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে দশ গোল খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়েছি। তার ১৪ বছরের রাজত্বে এমন বিরোধিতার সামনে তিনি কখনও পড়েননি। বিজেপিকে দেশভাগের জন্য দায়ী করা হয়েছে, এমনকি অমিত শাহ ও মোদীকে চোর বলা হয়েছে। এভাবেই বৃহস্পতিবার দিনভর রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে তৃণমূল এবং বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের পরে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছে। শাসক এবং বিরোধী, দু’পক্ষের তুমুল হই-হট্টগোলে অধিবেশন কক্ষ পরিণত হয় কার্যত মাছের বাজারে। গত মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করার পর এবার আরও পাঁচজন বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরা হলেন শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, বঙ্কিম ঘোষ, মিহির গোস্বামী ও অশোক দিন্দা।
এদিন বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীদের হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিধানসভার ভিতরে তৃণমূলের ক্যাডারদের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে ঢোকানো হয়েছে। তারা শঙ্কর ঘোষ, মিহির গোস্বামী, বঙ্কিম ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালকে মারধর করেছে। শঙ্কর ঘোষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বুকে স্টেন বসানো বঙ্কিম ঘোষও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন শঙ্কর ঘোষ।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ যখন অসুস্থবোধ করেন, সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যায়, খুব সাবধানে সতীর্থকে বিধানসভার অধিবেশন থেকে বের করে নিয়ে যেতে। এরপর অসুস্থ শঙ্কর ঘোষকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজকের অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আগে অগ্নিমিত্রা পালের নাম ডাকা হয় । তবে তিনি তখন অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না । তখন মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তৃতা রাখতে বলেন স্পিকার। কিন্তু এরই মধ্যে চলে আসেন অগ্নিমিত্রা। বিজেপি বিধায়করা চিৎকার করতে থাকেন, যাতে অগ্নিমিত্রাকে বলতে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীও তখন স্পিকারকে অনুরোধ করেন, যাতে অগ্নিমিত্রাকে বলতে দেন তিনি। স্পিকার সে অনুমতি দেন, কিন্তু অগ্নিমিত্রার বক্তৃতার সময় কমিয়ে দেন স্পিকার । নির্দিষ্ট সময় পর তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর মমতা ফের বলতে শুরু করলে বিজেপি বিধায়করা কন্ঠরোধের অভিযোগ তুলে তুমুল হইহট্টগোল শুরু করে দেন। আর তখনই শঙ্কর ঘোষ স্লোগান শুরু করেন, কেন শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, আর সে বিষয়ে কেন দু’রকমের বক্তব্য রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মাঝেই বিধায়করা ঘিরে ধরেন স্পিকারকে। মমতাকে যথেষ্ট উত্তেজিত দেখা যায় । শেষ পর্যন্ত চিফ হুইপ শঙ্কর ঘোষকে সাসপেন্ড করে দেন স্পিকার।
বিজেপি বিধায়কদের হেনস্থার পর বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ফোন করে শঙ্কর ঘোষ এবং বঙ্কিম ঘোষের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বিজেপি আমাদের পাশে রয়েছে। শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুরে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, এদিন শুভেন্দু আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এবং সেগুলোকে চিহ্নিত করে যদি তাদের বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো না হয় তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ২০২৪ সালের পরে যে সমস্ত বাংলাদেশি হিন্দুরা ভারতে এসেছে তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তারা শরণার্থী হিসেবে থাকতে পারবে। ভারত সরকার তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবে।
বস্তুত, এদিন বিধানসভার বাইরেই নয়া জিএসটি স্ল্যাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মোদী সরকার মধ্যবিত্তের কথা ভেবেছে। সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জীবনদায়ী ওষুধে জিএসটি মকুব করা হয়েছে। ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে তাঁর সরকার ঐতিহাসিক উপহার তুলে দিয়েছেন। এর জন্য আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধী দলনেতা বলেন, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলায় পেট্রোল ডিজেলের স্টেট চার্জ তুলছে, বাজারে আগুন, পুলিশ, সরকারি কর্মচারী, শিক্ষকরা ডিএ পায় না। চাকরি নেই। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা সমকাজে সমবেতন পায় না।















