নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ফের মুখ পুড়ল সিপিএমের। গুরুতর নৈতিক স্খলন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হল রাজ্য কমিটির তরুণ সদস্য ইন্দ্রজিৎ ঘোষকে। শুক্রবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকেই এই চরম সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিশেষ বিষয় হল, যখন তাঁর বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হচ্ছিল, ইন্দ্রজিৎ তখন সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন।
অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির (আইসিসি) রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। ইন্দ্রজিৎ ঘোষ দলের মধ্যে অত্যন্ত উদীয়মান মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সিটুর কলকাতা জেলার কোটায় তিনি গত রাজ্য সম্মেলনে কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ডিওয়াইএফআই-এর প্রাক্তন এই নেতা সিটুর অ্যাপ ক্যাব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। শুধু তাই নয়, এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের মঞ্চেও তাঁকে সিপিএমের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দেখা যেত।
শুক্রবারের বৈঠকে মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানান, ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আর সেই সুপারিশ মেনেই তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মূলে রয়েছে বেলঘরিয়ার এক তরুণী সিপিএম কর্মীর অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, ইন্দ্রজিৎ তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস করেছেন। ওই তরুণীর বাবা এবং মা— উভয়েই সিপিএমের দীর্ঘদিনের সদস্য। দলের অন্দরেই এমন এক পরিবারের কন্যার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বিড়ম্বনায় পড়েছিল আলিমুদ্দিন। এর আগে প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তি বেড়েছিল সিপিএমের।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্দ্রজিতের এই ঘটনা বাম শিবিরের নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। তরুণ প্রজন্মের নেতার এমন ব্যক্তিগত অসদাচরণে স্বাভাবিকভাবেই মান গিয়েছে দলের। বিশেষ করে যখন নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইন্দ্রজিৎকে দলের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল, তখন এই কেলেঙ্কারি রাজনৈতিক মহলে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বিরোধীদের কাছে। এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে সিপিএম শুদ্ধিকরণের বার্তা দিতে চাইলেও, দলের অন্দরে নৈতিকতার অবক্ষয় নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আপাতত এই ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে চাইছে সিপিএম নেতৃত্ব।














