শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মা। ভাদ্র মাসের শেষ দিনে পূণ্য তিথিতে বরাবরের মতো এই বছরও শিল্পী জগতের মানুষজন বরণ করে নিয়েছেন বিশ্বকর্মাকে। ভারতের একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেভাবে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেক্ষিতে এবার এই প্রথমবার বাংলায় বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছিলেন পরিচয় শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সম্মান জানাতেই এবারের এই ছুটি ঘোষণা।
বুধবার এই উপলক্ষে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, সকলকে জানাই বিশ্বকর্মা পুজোর আন্তরিক শুভেচ্ছা। এবার আমরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মান জানিয়ে বিশ্বকর্মা পুজোতে রাজ্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছি। তবে শুধুমাত্র ছুটি ঘোষণা করেই পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মান জানানো নয়, আজ নিজে বিশ্বকর্মা পুজোর মন্ডপে গিয়ে ভক্তি ভরে প্রণাম জানালেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার বাড়ির সামনেই রয়েছে একটি পুলিশ আউটপোস্ট। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের উদ্যোগে প্রত্যেক বছরই আয়োজিত হয় বিশ্বকর্মা পুজো। আজ সেখানে ঠাকুর মশাই হিসেবে পুজো করেন রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।
সেখানে সারপ্রাইজ ভিজিট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, তৃণমূল ভবনেও বিশ্বকর্মা পুজো হয়েছে। বাড়িতে প্রতি বার কালীপুজো করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পুজোয় সারা দিন উপবাস রেখে সন্ধ্যায় নিজে হাতে ভোগও রাঁধেন মমতা। এ বার বাড়ির পাশের পুলিশ দফতরে বিশ্বকর্মা পুজোতেও অংশ নিলেন তিনি। পরে বিশ্বকর্মা পুজোর মণ্ডপে নিজের উপস্থিতির শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, কালীঘাটে আমার বাড়ির পাশে পুলিশের অফিসে পুলিশ আজ বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করেছে। আমি ওদের সঙ্গে ছিলাম। কয়েকটি ছবি শেয়ার করে নিলাম। সম্প্রতি ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলায় কথা বলায় শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার কথা বলেছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের পুনর্বাসনে শ্রমশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতাধীন পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্য়ে ফেরার পর যতদিন না কাজের সুযোগ পাচ্ছেন ততদিন প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসাথী-সহ রাজ্যের পরিষেবামূলক প্রকল্পের সুবিধাও তাঁরা পাবেন। সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মান জানিয়ে বিশ্বকর্মা পুজোয় ছুটি ঘোষণা আগেই করেছিলেন মমতা। আজকে নিজও বিশ্বকর্মা পুজোয় অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বকর্মাপুজোয় অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।















