হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষই একে ‘গ্যাসের সমস্যা’ বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ ভেবে অবহেলা করা উপসর্গটি আসলে অ্যাংজাইটি বা মানসিক উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক কারণ না বুঝে ভুল ওষুধ সেবন করার ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস এবং অ্যাংজাইটির লক্ষণের মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু মিল থাকায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হন, যা সঠিক চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গ্যাস বনাম অ্যাংজাইটি: পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস বা বদহজমের প্রধান উপসর্গ হলো পেট ফোলা, অস্বস্তি, ঘনঘন ঢেকুর ওঠা এবং পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্পিং। এই সমস্যাগুলো সাধারণত খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় এবং অ্যান্টাসিড বা ঘরোয়া টোটকায় দ্রুত উপশম মেলে। অন্যদিকে, অ্যাংজাইটির মূলে থাকে মানসিক চাপ বা হঠাৎ কোনো ভীতি। এর ফলে বুক ধড়ফড় করা, বুকে চাপের অনুভূতি, অতিরিক্ত ঘাম, হাত-পা কাঁপা এবং মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অ্যাংজাইটির সঙ্গে খাওয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকে না এবং গ্যাসের ওষুধে এক্ষেত্রে কোনো আরাম পাওয়া যায় না।
বিভ্রান্তির মূল কারণগুলো কী?
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, এই দুই সমস্যার মধ্যে কিছু সাধারণ মিল রয়েছে যা বিভ্রান্তি তৈরি করে:
বুকে চাপ: গ্যাস জমলে বুকের মাঝখানে ভারী ভাব অনুভব হয়; একইভাবে অ্যাংজাইটির সময়ও বুক চেপে ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট: পেট ফুলে গেলে শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে, আবার অ্যাংজাইটির সময় দ্রুত শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় যা প্রায় একই রকম অনুভূতি দেয়।
আকস্মিকতা: দুটি সমস্যাই হুট করে শুরু হতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক অবস্থায় আসল কারণ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন।
কখন সতর্ক হতে হবে?
সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো, গ্যাস বা অ্যাংজাইটির অনেক লক্ষণ হার্টের সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি বুকের ব্যথা ১৫–২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় এবং সেই ব্যথা বাম হাতে বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া বমি ভাব, তীব্র মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
খাওয়ার পর পেট ভারী হওয়া বা অম্বল হওয়া সাধারণত গ্যাসের ইঙ্গিত দিলেও, হঠাৎ অস্থিরতা ও বুক ধড়ফড় করা মানসিক উদ্বেগের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক সংকেতকে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করাই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।













