এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬ পূরণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও বিভ্রান্তি কাটাতে নয়া নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা যাবে। আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা আবেদন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এমনকী, আগে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করলেও তা মিথ্যা ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনও আইনি পদক্ষেপও করা হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। এরই মধ্যে ফর্ম ৬ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। তবে এসআইআরের খসড়া তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরাও এই ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা যাবে। আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে, এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছিল।
কমিশনের বক্তব্য, এই আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। প্রথমবার যাঁরা ভোটার হচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ফর্ম পূরণ নিয়ে কোনও অন্যায় বা অনিয়মের প্রশ্ন উঠছে না। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মেনে এ ধরনের আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে কমিশন। ফর্ম ৬ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে কমিশনের এই নির্দেশিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বহু ভোটারের সামনে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আইনি জটিলতার আশঙ্কা দূর করতেই কমিশন এই ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তনের জন্য সরকারের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, এই ফর্মে কোনও পরিবর্তন আনতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যেও মতপার্থক্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও পরে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানায়, ফর্ম ৬-এ আদতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে ফর্ম ৬ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই নতুন নির্দেশিকায় আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল কমিশন।














