“ভারতীয় ফুটবল চমৎকার গতিতে এগিয়ে চলেছে”— ‘ফিট ইন্ডিয়া সানডেজ অন সাইকেল’-এর ৮৫তম সংস্করণের অনুষ্ঠানে ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়ার এই মন্তব্য ঘিরে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) পুনরায় শুরু হওয়ার ইতিবাচক সংকেত থাকলেও, বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত জটিল ও সংকটজনক। ক্লাব প্রত্যাহার, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সম্প্রচার স্বত্বের ধারাবাহিক পতন এবং জাতীয় দল পরিচালনার বিশৃঙ্খলা ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সম্প্রতি টাটা স্টিল তাদের দল ‘জামশেদপুর এফসি’-কে ২০২৬-২৭ মরসুমের আইএসএল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এই সিদ্ধান্তের পর প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী ও এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। কেবল জামশেদপুরই নয়; ‘সিটি ফুটবল গ্রুপ’ তাদের অংশীদারিত্ব গুটিয়ে নিয়েছে মুম্বই সিটি এফসি থেকে, কেরল ব্লাস্টার্স সম্পূর্ণ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা করছে, আর্থিক সংকটে পড়ে হায়দরাবাদ এফসি মালিকানা পরিবর্তনের পর ‘স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি’ নামে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং নতুন উন্নীত ডায়মন্ড হারবার এফসি-র ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি আইএসএল ক্লাব মরসুমে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং ম্যাচের সম্প্রচার মূল্য একসময়কার প্রায় ১.৬৮ কোটি টাকা থেকে কমে গত মরসুমে নেমে এসেছে মাত্র ৯.৫ লাখ টাকায়। কেবল ক্লাব ফুটবলই নয়, জাতীয় দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাতেও চরম সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে এসেছে। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ হিসেবে বিবিয়ানো ফার্নান্দেস দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও রণজিৎ বাজাজকে ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে কোচিং দর্শনে অমিলের কারণে জটিলতার সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) যখন অক্টোবরে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা করছে, তখন প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া সতর্ক করেছেন যে এটি ফিফা আসিয়ান কাপের জাতীয় সূচির সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে ভারতীয় ফুটবল যখন সামগ্রিকভাবে পরিকাঠামোগত ও আর্থিক সংকটে জর্জরিত, তখন ক্রীড়ামন্ত্রীর এই “চমৎকার অগ্রগতি”র দাবি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বাস্তবতার বিপরীত বলেই প্রতিপন্ন হচ্ছে।














