ভিক্ষুকের কাছ থেকেও আবাস যোজনার টাকা বাবদ কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল নদিয়া। অভিযোগ, এক ভিক্ষুক মহিলা ‘বাংলা আবাস যোজনা’ প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা থেকে তাকে দিতে হয়েছে কাটমানি। এই অভিযোগ করেই তিনি সরাসরি লিখিতভাবে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ ব্লকের বিডিওকে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, নদিয়ার পলাশীর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা চন্দনা সর্দার শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনরকমে জীবনযাপন করেন। বাংলা আবাস যোজনায় তিনি একটি ঘর পান। এরপর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর অভিযোগ ওঠে, এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান রুমা দাসের স্বামী সমর দাস তার কাছ থেকে জোর করে সাত হাজার টাকা আদায় করেন। শুধু তাই নয়, পরে আরও কুড়ি হাজার টাকা দাবি করা হয়। অশেষ অসহায় অবস্থায় পড়ে তিনি শেষমেষ কালীগঞ্জ বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
চন্দনার অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিজেপির জেলা নেতা অমিত প্রামানিক বলেন, ‘আবার প্রমাণ হল তৃণমূল কাটমানি ছাড়া কিছুই বোঝে না। এক ভিক্ষুকের কাছ থেকেও যদি কাটমানি তোলা হয়, তার মানে তারা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে বুঝতেই পারছেন। আমাদের লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে।’
ঘটনাকে ঘিরে বিরোধীরা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণে কেন্দ্র সরকার প্রকল্পের টাকা আটকে দেয়। আন্দোলন করেও তৃণমূল কোন সুরাহা করতে পারেনি। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, বাংলায় আবাস যোজনায় বাড়ির টাকা রাজ্য সরকার দেবে। তখন তিনি প্রকল্পের নাম দেন ‘বাংলা আবাস যোজনা’। কিন্তু সেখান থেকেও কাটমানির অভিযোগ ওঠায় বিব্রত শাসক দল।
অভিযুক্ত সমর দাস অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওরা খুবই গরিব মানুষ, ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনভাবে সংসার চালায়। এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকায় দুর্নীতির অভিযোগ কতটা সত্য তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করবে প্রশাসন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নিন্দার ঝড় ওঠে। বিরোধীরা বলছে, তৃণমূল কাটমানি ছাড়া কিছু বোঝেই না। ভিক্ষুকের কাছ থেকেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ নির্লজ্জতার চরম উদাহরণ। এখন নজর সবাই রাখছে, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়।













