ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ওরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা। সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানজনক বিরল এই পুরস্কার জিতলেন বঙ্গকন্যা। এটি এই বিভাগে কোনও ভারতীয়র পাওয়া প্রথম পুরস্কার। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার কন্যার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-ও।
ভেনিসের মঞ্চে সাদা শাড়ি পরে পুরস্কার নিতে গিয়ে অনুপর্ণা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি তার প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপ এবং পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমার শহর এবং আমার দেশের প্রত্যেককে গর্বিত করতে পেরে আমি সত্যিই ধন্য। দ্য সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ ছবিটি দুই মহিলাকে নিয়ে তৈরি, যারা মুম্বাইতে থাকেন। একজন অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শহরে আসা থুয়া এবং আরেকজন শ্বেতা।
দুই ভিন্ন জগতের এই দুই নারী একই ঘরে থাকতে শুরু করলে তাদের মধ্যে একটি অদ্ভুত বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ছবিটি মূলত আত্ম-অনুসন্ধান, বেঁচে থাকার লড়াই এবং একটি অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্বের গল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপর্ণার সাফল্যে গর্ব ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আমাদের পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায়ের একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তির খবরে আমি আনন্দিত। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের তরুণীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, তাঁর এই মুকুট অর্জন আমাদের রাজ্যের মেয়েদের জন্য এক বিজয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এমন মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে অনুপর্ণার জয় তাঁর প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং সহনশীলতার প্রমাণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চলচ্চিত্র জগতে একে বিশ্বজয় বলা যেতে পারে। তিনি অনুপর্ণার জঙ্গলমহলের যোগসূত্রকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনুপর্ণারা রাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুপর্ণাকে শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-ও। রাজভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিসেস রায়ের জন্মস্থান পুরুলিয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনি গৌরব নিয়ে এসেছেন। এই তরুণ প্রতিভা আগামী বছরগুলিতে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও উজ্জ্বল উচ্চতায় পৌঁছবেন, এই কামনা করি।













