Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ভোটের আগে ফের ফাটল আলিমুদ্দিনে সেলিমকে চিঠি দিয়ে ইস্তফা প্রতীকের

ভোটের আগে ফের ফাটল আলিমুদ্দিনে সেলিমকে চিঠি দিয়ে ইস্তফা প্রতীকের

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বড়সড় ভাঙন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি পাঠিয়ে সিপিএমের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন লড়াকু ছাত্র নেতা হিসেবে পরিচিত প্রতীক উর রহমান। শুধু পদের দায়িত্বই নয়, পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের ঘাসফুল-পদ্ম শিবিরের লড়াইয়ের মাঝে বামেদের এই তরুণ মুখ দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় অস্বস্তিতে পড়েছে বামেরা । রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতীকের মতো যুব নেতার এই প্রস্থান বামেদের ঘর গুছোনোর পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াল।

 

রাজ্য সম্পাদককে পাঠানো চিঠিতে নিজের প্রতীক লিখেছেন, ‘কমরেড, আমি প্রতীক উর রহমান, পার্টির একজন সর্বক্ষণের কর্মী । সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে । এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎসহ পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । আমার এই সিদ্ধান্ত আপনাকে অবগত করালাম ।’ প্রতীকের এই চিঠিতে নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নীতিগত ও কর্মপদ্ধতিগত দূরত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সমাজমাধ্যম এই চিঠি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে । যদিও এই চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি সকালের শিরোনাম ।

 

এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি প্রতীকের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাম শিবিরে কম ছিল না। গত লোকসভা নির্বাচনে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকে লড়াই করেছিলেন তিনি। লড়াকু ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা দলের নিচুতলাতেও ছিল নজরকাড়া। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্য চলছিল বলে খবর। সেই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছাতেই শেষ পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপ বেছে নিলেন তিনি।

 

এদিকে এই ঘটনায় বামেদের বিঁধতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে প্রতীকের এই চিঠিটি পোস্ট করে সিপিএম নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। কুণাল লিখেছেন, ‘সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম । এসএফআই শীর্ষনেতা, জেলা নেতা, রাজ্য কমিটির কিছু দায়িত্বে থাকা ও গত লোকসভায় ডায়মন্ড হারবারে সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর । সিপিএমকে সর্বস্তরে 0 তে নামানো সম্পাদক ও তাঁর কিছু অযোগ্য বাতেলাবাজের কাঠিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত বলে খবর । চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারিনি । ভুল হলে ডিলিট করে দেব ।’

 

ভোটের মুখে যখন বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট নতুন করে অক্সিজেন খোঁজার চেষ্টা করছে, তখন কংগ্রেসের জোট থেকে সরে যাওয়া আবার প্রতীকের এই ‘বিদ্রোহ’ কর্মীদের মনোবলে বড় আঘাত হানল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। আর এক মহলের ধারনা কিছুদিন আগে হুমায়ুন এবং সেলিমের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল তারপর থেকে বামেদের তরুণ তুর্কি থেকে প্রবীণরা পর্যন্ত বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেনি। কারণ এটি দলের মতাদর্শের সঙ্গে যায় না । এই নিয়ে প্রতীক উর রহমানের একটি পোষ্ট ভাইরাল হয়েছিল এবং সেই সঙ্গে শতরূপ ঘোষের মন্তব্য বেস চর্চিত হয়েছিল। সবমিলিয়ে,আলিমুদ্দিনের অন্দরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এখন প্রকাশ্য রাস্তায় চলে আসায় বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া সিপিএমের জন্য আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।

READ MORE.....