Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

মমতার গড়ে উধাও ৪৫ হাজার ভোটার কাউন্সিলরদের রিপোর্ট তলবের নির্দেশ

মমতার গড়ে উধাও ৪৫ হাজার ভোটার কাউন্সিলরদের রিপোর্ট তলবের নির্দেশ

দিল্লি যাত্রার ঠিক আগের মুহূর্ত। কালীঘাটের বাসভবনে তখন টানটান উত্তেজনা। নিজের খাসতালুক ভবানীপুরের সংগঠন নিয়ে রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং কাউন্সিলরদের জনসংযোগে শৈথিল্য দেখে শুক্রবারের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন, কাজে গাফিলতি তিনি বরদাস্ত করবেন না। দলীয় সূত্রে খবর, এলাকার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের কার্যত ভর্ৎসনা করে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে খবর আছে যে, এলাকায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না।

এদিন সন্ধ্যায় কালীঘাটের জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি, দেবাশিস কুমারদের মতো দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রীকে সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৪৫ হাজার নাম। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষের নাজেহাল হওয়ার খবরে বিমর্ষ নেত্রী। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দূরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে অভিহিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের সতর্ক করে দেন। প্রতিটি ভোটারের দুয়ারে গিয়ে স্ক্রুটিনি বা যাচাইয়ের কাজে জোর দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দিন-রাত এক করে মানুষের কাছে পৌঁছনোর বার্তাই এখন ভবানীপুরের তৃণমূল শিবিরের মূল মন্ত্র।

বিশেষ নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে ৬৩ এবং ৭২ নম্বর ওয়ার্ডকে। অন্যদিকে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানিতে যাঁদের ডাকা হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তাঁর কাছে জমা দিতে হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এখন থেকে প্রতিটি পদক্ষেপের হিসাব দিতে হবে কাউন্সিলরদের।

কাজের গতি বাড়াতে কড়া রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করেছেন মমতা। প্রতিদিনের কাজের খতিয়ান জমা দিতে হবে ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমারের কাছে। সেই রিপোর্ট সরাসরি পৌঁছে যাবে দলনেত্রীর টেবিলে। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে কেউ মুখ না খুললেও, রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লি যাওয়ার আগে ঘরের সংগঠনকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ নেত্রী। ভোটার তালিকায় বিন্দুমাত্র গরমিল রুখতে এবং সংগঠনের ঝিমিয়ে পড়া ভাব কাটাতে কাউন্সিলরদের জন্য এটাই মমতার কড়া দাওয়াই। ফাইল ফটো।

READ MORE.....