দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম ‘মাদার ডেয়ারি ক্যালকাটা’ আর থাকছে না। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, মাদার ডেয়ারি সম্পূর্ণভাবে মিশে যাচ্ছে ‘বাংলা ডেয়ারি’র সঙ্গে। এর ফলে এখন থেকে মাদার ডেয়ারির সমস্ত পণ্য নতুন ব্র্যান্ড নাম ‘বাংলা ডেয়ারি’ হিসেবেই বাজারে মিলবে। এদিন বৈঠক শেষে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই সংযুক্তিকরণের ফলে মাদার ডেয়ারির পৃথক অস্তিত্ব আজ থেকেই বিলুপ্ত হলো। বৃহস্পতিবার থেকে গ্রাহকরা মাদার ডেয়ারির বদলে নতুন এই নামেই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য পাবেন। ডেয়ারি শিল্পের এই রদবদলের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানেও গতি আনতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে সরকার। শিল্প সম্মেলনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নাহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড ওয়্যারহাউস তৈরির জন্য ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে।
এর জন্য সিলিং বহির্ভূত ১১.৩৫ একর জমি পুনরায় গ্রহণ করে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া হাওড়ার অঙ্কুরহাটি এবং ডোমজুড়ে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের জন্য জমি ও অফিস স্পেস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। খড়্গপুর, পানাগড় এবং হরিণঘাটায় আরও ৪টি প্লটে প্রায় ৩০ একর জমি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরীর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১১৫ একর জমি। রাজ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া জেএসডব্লিউ এনার্জি লিমিটেডকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি প্রতি ঘণ্টায় ৫.৮১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। পিপিপি মডেলে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করা হবে। মোট ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির জন্য জমি বরাদ্দ করার বিষয়েও এদিন মন্ত্রিসভা সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই সামগ্রিক উদ্যোগের ফলে রাজ্যের পরিকাঠামো এবং শিল্পে নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।













