শহরবাসীর ভোটবিমুখতা কাটাতে এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ঘরের কাছে বুথ পৌঁছে দিতে রাজ্যের ৬৯টি বহুতল আবাসনে পোলিং স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে চাইছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। মূলত যে সমস্ত হাইরাইজ আবাসনে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানেই এই সুবিধা মিলবে। এর আগে বহু টালবাহানা চললেও শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনায় সিলমোহর দিল কমিশন।
রাজ্যের সাতটি জেলার একাধিক বহুতলকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুথ তৈরির দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলায় ২৫টি আবাসনে ভোটকেন্দ্র হচ্ছে। এরপরই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানে ২২টি বহুতলে বুথ গড়ার ছাড়পত্র মিলেছে। এছাড়াও তালিকায় আছে উত্তর কলকাতার ৮টি, হুগলির ৫টি, হাওড়ার ৪টি এবং পূর্ব বর্ধমানের ৩টি আবাসন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বহুতল ও আবাসনের সংখ্যার বিচারে দক্ষিণ কলকাতা এগিয়ে থাকলেও বুথ তৈরির আবেদনে তারা সবার পিছনে। মাত্র দুটি আবাসন থেকে সেখানে সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
যদিও কমিশনের দাবি, আবেদনের সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি, ফলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। শহুরে ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের অনীহা নতুন কিছু নয়। গত নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে, কলকাতায় গড় ভোটের হার ৫৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। বার বার প্রচার চালিয়েও বহু মানুষ বুথমুখী হননি। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই নতুন কৌশল নিল কমিশন। আবাসনের অন্দরেই অন্য সাধারণ বুথের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
গত ৩০ ডিসেম্বর রাজ্যের আটজন জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী এবং সিইও দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা চূড়ান্ত করতে। তবে অনেক আবাসন কর্তৃপক্ষই এই বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি বলে জানা গিয়েছে। আপাতত যে ক’টি আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলিকে ভিত্তি করেই কাজ এগোচ্ছে কমিশন। ঘরের দরজায় বুথ এলে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের অনীহা কাটে কি না, এখন সেটাই দেখার। ফাইল ফটো ।














