রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার শুনানি ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সংশোধনের এই পর্বে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। শনিবার থেকেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ঠিকানায় শুনানির নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে সিইও দপ্তর । নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত এই নোটিসগুলো ইংরেজি ভাষায় পাঠানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আঞ্চলিক ভাষায় নোটিস পাঠানোর অনুমতির জন্য দিল্লির কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের সিইও দপ্তর। শুনানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে বেনজির নজরদারির ব্যবস্থা করছে কমিশন। এই কাজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হচ্ছে।
মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাই এই নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। প্রতি বিধানসভা পিছু ১১ জন করে মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হতে পারে। শনিবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যেমন রেল, আয়কর, কোল ইন্ডিয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর এই মাইক্রো অবজার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শুনানির টেবিলে বসে তাঁরা মূলত ভোটারদের নথি, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র এবং ফর্ম যাচাইয়ের কাজ তদারকি করবেন।
নির্বাচনী আধিকারিকদের কাজে কোনও গাফিলতি থাকছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখবেন এই কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। দিনে গড়ে ১০০ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য আধিকারিকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। উৎসবের মরসুমেই ভোটার তালিকা নিখুঁত করতে কোমর বেঁধে নামছে কমিশন।















