Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

লালগোলায় ভাঙ্গন ঘিরে বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা পুলিশকর্মীদের

লালগোলায় ভাঙ্গন ঘিরে বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা পুলিশকর্মীদের

পুলিশের সঙ্গে বচসা, মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অচিন্ত ঘোষ ও লালন ঘোষ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এই বিষয়ে ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, ভাঙ্গন কবলিত তারানগরে মানুষকে সতর্ক করতে গিয়ে একসময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের বচসা বাঁধে। এর জেরে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে মারধর করে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিকে ভাঙ্গন এলাকায় নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশি টহলদারি শুরু হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রতিদিনই পদ্মার ভাঙ্গনে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের জমি ও ঘরবাড়ি। চারদিকে শোনা যাচ্ছে মানুষের হাহাকার ও আর্তনাদ। এরই মধ্যে বিপজ্জনক ভাঙ্গন প্রবণ তারানগরে প্রতিদিন ভিড় করছেন বাইরে থেকে আসা বহু মানুষ। অথচ সেখানে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সন্ধ্যায় মানুষকে পদ্মার পাড় থেকে সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে জনতার বচসা বাঁধে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়, যাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। নির্বিচারে ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। পরে লালগোলা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই পুলিশ প্রহ্লাদ ঘোষ ও অচিন্ত ঘোষকে থানায় নিয়ে আসে। তবে গভীর রাতে প্রহ্লাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে লালন ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, প্রহ্লাদ, অচিন্ত ও লালন তিনজনেই সহোদর ভাই।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বিনা কারণে পদ্মাপাড়ের মানুষদের উপর চড়াও হচ্ছে। অনেক সময় লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতেও ছাড়ছে না। প্রহ্লাদের শ্যালক সেদিন সন্ধ্যায় ময়া এলাকা থেকে টোটো করে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। মূলত ভাঙনের জেরে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষ পরিবারের বাড়ির জিনিসপত্র সরাতেই তিনি যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশ এতে বাধা দিলে বচসা বাঁধে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন লালন, অচিন্ত ও আরও কয়েকজন বাসিন্দা। শুরু হয় অশান্তি, মারধর ও ভাঙচুর।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙন বিধ্বস্ত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে।এদিকে সোমবার পদ্মায় কিছুটা জল কমেছে। সেদিন বড় ধরনের ভাঙ্গন না দেখা গেলেও নিরাপত্তার খাতিরে বহু পরিবারকে এখনও বাড়িঘর থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা গেছে।

READ MORE.....