আন্তর্জাতিক আইনের প্রসার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী তথা আইনজীবী নভনেথেম ‘নভী’ পিল্লাই। এক বাসচালকের কন্যা হিসেবে বর্ণবিদ্বেষের অন্ধকার যুগে তাঁর লড়াই শুরু হয়েছিল; পরবর্তীকালে যা পৌঁছে যায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত শীর্ষ পদে। নোবেল প্রাপ্তির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর প্রথম জীবনের বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলন এবং নেলসন ম্যান্ডেলার কারাবাসের দিনগুলির সঙ্গে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ সংযোগ।
পিল্লাইয়ের আইনি কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জুড়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষী শাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলনকারী এবং রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার রক্ষার লড়াই। ১৯৬৩-৬৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহাসিক ‘রিভোনিয়া ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে নেলসন ম্যান্ডেলা এবং আরও সাতজন বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলনকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে পাঠানো হয়েছিল কুখ্যাত রবেন দ্বীপে। সেই মামলায় পিল্লাই সরাসরি ম্যান্ডেলার আইনজীবী ছিলেন না ঠিকই, তবে ১৯৭১-৭২ সালে ‘সন্ত্রাস দমন আইন’-এর অধীনে হওয়া মামলায় বন্দিদের ওপর পুলিশের নির্মম অত্যাচারের পর্দাফাঁস করতে তৈরি আইনি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
এর পরই রবেন দ্বীপের বন্দিদের জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন এই মানবাধিকার আইনজীবী। ১৯৭৩ সালে, যখন ম্যান্ডেলা সেখানে চরম প্রতিকূল পরিবেশে বন্দিদশা কাটাচ্ছেন, তখন রবেন দ্বীপের কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই সরাসরি আইনি লড়াই শুরু করেন পিল্লাই। বন্দিদের মৌলিক অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আদালতে সওয়াল করে বড় আইনি জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তিনি। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর এই আপসহীন ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে মানুষের সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘ লড়াই-ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে এনে দিল বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মান।














