Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

শাসকদলের ‘মৌসম’ বদল পুরনো ‘হাত’ ধরলেন গনি-ভাগ্নি

শাসকদলের ‘মৌসম’ বদল পুরনো ‘হাত’ ধরলেন গনি-ভাগ্নি

বছরের শুরুতেই বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় দলবদল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহে তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ধাক্কা। দীর্ঘ সাত বছরের ‘তৃণমূল’ অধ্যায়ে ইতি টেনে ফের নিজের পুরনো দল কংগ্রেসেই ফিরে গেলেন গনিখান চৌধুরী পরিবারের সদস্যা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার খাস রাজধানীতে কংগ্রেসের সদর দফতরে গিয়ে ঘাসফুল ত্যাগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। গনি পরিবারের এই মেয়ের ঘরওয়াপসিতে স্বভাবতই উজ্জীবিত উত্তরবঙ্গের কংগ্রেস শিবির। শনিবার দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডের দফতরে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কংগ্রেসে যোগ দেন মৌসম।

 

উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মৌসমের দাদা তথা মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। দলবদলের পরই মৌসম স্পষ্ট করে দেন, ঘরের মেয়ে ঘরেই ফিরেছেন। তিনি জানান, মালদহের কোতোয়ালি পরিবারের ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, বরকত সাহেবের পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। ইশা খান চৌধুরীও বোনকে পাশে পেয়ে আপ্লুত। তাঁর দাবি, এই যোগদানের ফলে পরিবারের অন্দরে থাকা রাজনৈতিক বিভাজন সম্পূর্ণ ঘুচে গেল। মৌসমের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে মমতার শিবিরে এসেছিলেন তিনি।

 

তখন তিনি বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তৃণমূল তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে শুরু করে রাজ্যসভার সাংসদ পদ সব কিছুই দিয়েছিল। কিন্তু গত সাত বছরে মালদহের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলেছে। লোকসভা নির্বাচনে খগেন মুর্মুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন মৌসম। দলের অন্দরেও গত কিছু সময় ধরে তাঁর গুরুত্ব কমছিল বলে রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মালদহে তৃণমূলের ফল আশাব্যঞ্জক হলেও, মৌসমের নিজের এলাকায় দাপট নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সম্প্রতি তৃণমূল তাঁকে বিধানসভাভিত্তিক সমন্বয়কের দায়িত্ব দিলেও তিনি কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সোমবারই তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

যদিও তাঁর মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তৃণমূলের একাংশ এই পদত্যাগকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে সরব হলেও মৌসম নিজে কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি খুব একটা কড়া শব্দ প্রয়োগ করেননি। বরং তৃণমূলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মৌসমের বিপদে সব সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে ছিলেন। এমনকি তাঁর মা রুবি নূরের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনেও সৌজন্য দেখিয়ে মমতা প্রার্থী দেননি। এখন বরকত সাহেবের নাম ভাঙিয়ে কতদিন রাজনীতি করবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন।

 

তার আগে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহে মৌসমের কংগ্রেস ফেরা শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে। বর্তমানে মালদহের রাজনৈতিক মানচিত্র বলছে, উত্তর মালদহ বিজেপির দখলে আর দক্ষিণ মালদহ কংগ্রেসের। এবার মৌসম আসায় কংগ্রেসের শক্তি অনেকটাই বাড়ল। তবে এই ঘরওয়াপসি রাজ্য রাজনীতিতে কোনো নতুন জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জয়রাম রমেশ ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। মৌসমের লক্ষ্য এখন পরিষ্কার মালদহের মাটিতে গনি পরিবারের একাধিপত্য ফিরিয়ে আনা এবং বিধানসভা ভোটে হাত শিবিরকে জেতানো। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া ।

READ MORE.....