শীতকাল আনন্দের ঋতু। এই সময় শরীর মন ভালো থাকে, উৎসবের আমেজে জীবন উপভোগ্য হয়। তবে শীতের এই আনন্দের মাঝেও অসুস্থতার আশঙ্কা বাড়ে। শুষ্ক আবহাওয়া এবং ঠান্ডার কারণে অনেকেরই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, যেমন সর্দি-কাশি বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। প্রায়শই দেখা যায়, এই সময়ে হঠাৎ নাক থেকে রক্ত পড়ার ঘটনাও ঘটে, যা অনেক সময় চিন্তার কারণ হতে পারে।
প্রথমত, শীতকালের শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেনকে শুষ্ক করে দেয়। এতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং রক্তনালীগুলি ফেটে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসকদের মতে, জোরে হাঁচি দিলে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তজালিকা ছিঁড়ে যায়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া এই জালিকাগুলিকে দুর্বল করে তোলে, ফলে সামান্য চাপেই রক্তপাত ঘটে। তৃতীয়ত, নাকে শুষ্কতা বা অস্বস্তির কারণে অনেকেই নাক খোঁটেন বা ঘষে ফেলেন। এতে ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্ত বের হতে পারে।
সর্দি, সাইনাস বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণও নাকের আবরণীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা রক্তপাতের আরেকটি সাধারণ কারণ। এ ছাড়া শীতকালে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে রক্তপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ঠান্ডায় রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে দেহের সূক্ষ্ম রক্তজালিকা দুর্বল হয়ে পড়ে। নাকের ভেতরের নরম রক্তজালিকাগুলিও এই প্রভাবে ফেটে যেতে পারে, ফলে রক্তপাত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমে সোজা হয়ে বা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে বসুন, যাতে রক্ত গলায় না যায়। তারপর তর্জনী ও বুড়ো আঙুল দিয়ে নাকের নরম অংশটি শক্তভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট চেপে রাখুন এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় নাকের উপর বা কপালে চেপে রাখলে চাপ কমে এবং রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়। সাধারণত এইভাবে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। তবে যদি ১০–২০ মিনিট পরও রক্তপাত না থামে বা ঘন ঘন নাক থেকে রক্ত পড়ে, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।













