রাজ্যজুড়ে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক) ও ফুসফুসজনিত মারণব্যাধির ঝুঁকি। পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় আর দেদার খাওয়াদাওয়ার এই মরসুমে অনিয়মিত জীবনযাপন ও ঠান্ডার প্রভাবে বিশেষ করে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে অসুস্থতার হার বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞের মতে, সচেতনতা, মাস্কের ব্যবহার এবং নিয়মিত চেকআপই এই মরসুমে জীবনদায়ী হতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের মতে, শীতকালে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘প্লাক রেপচার’। রক্তনালীর ভেতরে জমে থাকা চর্বি বা প্লাক ঠান্ডার কারণে হঠাৎ ফেটে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়াও ঠান্ডায় ‘ভেসো কনস্ট্রিকশন’-এর ফলে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে এই সময়ে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বহুগুণ বেড়ে যায়।
তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে কলকাতা ও শহরতলিতে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। এর নেপথ্যে রয়েছে:অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও রাত জাগা।
অত্যধিক ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব।
বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে ব্যথা, অল্পেই ক্লান্তি, অ্যাসিডিটি বা বাম হাতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ফুসফুসের জটিলতা ও দূষণের প্রভাব
শীতের শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস শুধু হৃদযন্ত্র নয়, ফুসফুসেরও চরম ক্ষতি করছে। ফুসফুস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আয়ুষ গোয়েল জানান, ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালীর সংস্পর্শে এলে ‘ব্রঙ্কোস্পাজম’ বা শ্বাসনালীর সংকোচন ঘটে। এতে সিওপিডি , অ্যাজমা বা আইএলডি রোগীদের শ্বাসকষ্ট ও কাশি তীব্র আকার ধারণ করে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মারাত্মক বায়ুদূষণ। বাতাসে পিএম ২.৫ কণার আধিক্য ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রতিকার
শীতকালীন মারণরোগ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন: ১. মাস্কের ব্যবহার: দূষণ ও ঠান্ডা থেকে বাঁচতে বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ২. টিকা ও ওষুধ: ফ্লু ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধক টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত ওষুধ বন্ধ না করা। ৩. জীবনযাপন: শরীর হাইড্রেট রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং অতিরিক্ত ভোরে বা ঠান্ডায় বাইরে না বেরোনো। ৪. সতর্কতা: প্রবীণ নাগরিক এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের উপসর্গ সামান্য বাড়লেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলেই শীতের এই আনন্দময় মরসুমকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব।













