শীতের আমেজ শুরু হতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের ত্রিমোহিনী আদিবাসী পাড়ার মেটে দিঘি এখন পরিযায়ী বালিহাঁসদের দখলে। প্রতিবছরের মতো এবারও ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী এই বিশাল দিঘিতে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির ভিড় জমেছে। ভোর হতেই পাখিদের কলকাকলিতে ঘুম ভাঙে স্থানীয় আদিবাসী গ্রামবাসীর। প্রায় ১০০ একর আয়তনের এই মেটে দিঘিতে সারাদিন দল বেঁধে বালিহাঁসদের চড়ে বেড়াতে দেখা যায়। দিঘির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খাবারের খোঁজে তাদের এই বিচরণ গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনোতোষ হাসদা, উপেন হেমরম ও ধানি সরেনরা জানান, এই পাখিরা কোথা থেকে আসে তা তাদের অজানা থাকলেও, পাখিদের ডাকেই তাদের দৈনন্দিন কাজ শুরু হয়।
দিনের শেষে আলো ফুরিয়ে আসতেই পাখিরা দল বেঁধে কোনো এক অজানা আশ্রয়ের উদ্দেশে উড়ে যায়, আবার ভোরে ফিরে আসে দিঘিতে। পাখিদের সুরক্ষায় এই গ্রামের আদিবাসী সমাজ অত্যন্ত সচেতন। গ্রামবাসীদের দাবি, তারা নিজেরা যেমন পাখি শিকার করেন না, তেমনি বহিরাগত কোনো শিকারিকেও দিঘিতে নামতে দেন না। মৎস্যজীবীদেরও অনুরোধ করা হয়েছে যাতে পাখিদের কোনো অসুবিধা না হয়। বর্তমানের কড়া বন্যপ্রাণী আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গ্রামবাসী এই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।
এই প্রসঙ্গে পরিবেশপ্রেমী তুহিন শুভ্র মণ্ডল বলেন, পাখিরা প্রকৃতির সৌন্দর্যের দূত। পাখি শিকার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। শীতের এই মরশুমে পরিযায়ী পাখিদের ওপর যাতে কোনো অত্যাচার না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে। সব মিলিয়ে, মানুষের ভালোবাসা ও পাহাড়ায় হিলির এই মেটে দিঘি এখন পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।














