সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতে চলল। অথচ আরজি করের আন্দোলনকারী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর নিয়োগপত্র অধরাই থেকে গেল। সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে আরজি কর হাসপাতালেই সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। সেই ডেডলাইন বৃহস্পতিবার পার হতে চললেও স্বাস্থ্যভবনের তরফে কোনও তৎপরতা মেলেনি। উল্টে বুধবার বিকেলে বিহিত চাইতে গিয়ে স্বাস্থ্যভবনের মূল ফটক থেকেই ফিরতে হল অনিকেত ও তাঁর সতীর্থদের। পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডায় জড়ান জুনিয়র ডাক্তাররা। বুধবার বিকেলে অনিকেত মাহাতোর সঙ্গে স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবনের ১০০ মিটার আগেই পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। জানানো হয়, ‘উপরমহল’ থেকে তাঁদের ঢোকার অনুমতি নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে ফোনে স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেনের সঙ্গে তাঁদের কথা বলিয়ে দেওয়া হলেও সাক্ষাৎ মেলেনি। স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা দুজনেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। বিকেলে ৫টা নাগাদ ক্ষুব্ধ অনিকেতরা ফিরে আসতে বাধ্য হন।
বড়দিনের ছুটির অজুহাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় এখন আইনি পথেই হাঁটতে চাইছেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় প্রতিহিংসার ছায়া দেখছেন অনিকেত মাহাতো। তাঁর প্রশ্ন, ন্যায্য বিচার চাওয়ার কারণেই কি প্রশাসনের এই অবমাননাকর আচরণ? এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চ অনিকেতকে আরজি করে পোস্টিং দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও গত ১১ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।
স্পষ্ট জানানো হয়, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। মেধাতালিকা অনুযায়ী আরজি করে সুযোগ থাকলেও অনিকেতকে রায়গঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আগামী ২ জানুয়ারি হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেখানে আদালত অবমাননার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। অনিকেত সাফ জানিয়েছেন, সময়ের মধ্যে আরজি করে নিয়োগ না হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করবেন। আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেও কেন এক জন চিকিৎসককে নিয়োগের জন্য রাজপথে ঘুরতে হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।















