আর মাত্র একটা দিন। তারপরেই মাঘি শুক্লাপঞ্চমীর পুণ্য তিথিতে বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্য়েই সাজ-সাজ রব দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে পাড়ার ক্লাব ও কোচিং সেন্টারগুলিতে। কোথাও প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শেষ পর্যায়ে, তো কোথাও চলছে আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। তবে উৎসবের এই আবহে সবথেকে বেশি ব্যস্ততা এখন জেলার মৃৎশিল্পালয়গুলিতে। জেলার নামখানা, কাকদ্বীপ, সাগর কিংবা সোনারপুর—সর্বত্রই কুমোরটুলিগুলিতে এখন দম ফেলার সময় নেই শিল্পীদের। খড় আর কাদা মাটির কাঠামো পেরিয়ে প্রতিমা এখন রূপ পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ অবয়বে। কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের মাটির প্রলেপ, আবার কোথাও শুরু হয়েছে রঙ এবং তুলির সূক্ষ্ম কাজ।
শিল্পীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার ফরমায়েশ বা অর্ডার বেশ ভালো। দেবী সরস্বতীর চিরন্তন রূপের পাশাপাশি শ্বেতশুভ্র রাজহংস আর বকের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। গঙ্গাসাগরের এক প্রবীণ শিল্পী জানান, ‘সময়ের মধ্যে ঠাকুর ডেলিভারি দিতে হবে। তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে পরিবারের ছোট-বড় সবাই কাজে হাত লাগিয়েছি।
রঙের কাজ শেষ হলেই শুরু হবে ডাকের সাজ ও অলঙ্কার পরানোর চূড়ান্ত পর্ব’। বিগত কয়েক বছরের প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে খুশি শিল্পীরা। এখন শুধু অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাওয়া দেবী প্রতিমা পাড়ি দেবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন ক্লাব তথা বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হবে বিদ্যার দেবীর আরাধনা।













