টলিউড থেকে ঘাটাল সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দীপক অধিকারী ওরফে দেব। এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক পেলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ। শুধু অভিনেতা একাই নন, নির্বাচন কমিশনের আতসকাঁচের তলায় তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্য। কমিশন সূত্রে খবর, নাগরিকত্বের প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য তাঁদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
যদিও ঠিক কবে তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে, সেই দিনক্ষণ এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তৃণমূলের দাপুটে সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেতাকে এভাবে তলব করা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থেকে মুম্বই হয়ে টলিউডের সিংহাসন দখল দেবের জীবনকাহিনি কারোর অজানা নয়। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা হলেও তাঁর আদি বাড়ি ঘাটালে।
সেখান থেকেই টানা তিনবার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শাসকদলের দাবি, একজন ব্যস্ত অভিনেতা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেব যখন প্রতিনিয়ত জনসেবায় মগ্ন, তখন তাঁকে এভাবে তলব করা স্রেফ রাজনৈতিক হেনস্তা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস এই নোটিস পাঠানোর খবর নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, নামীদামি ব্যক্তিত্বদের এভাবে হয়রানি করার মানসিকতা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে একা দেব নন, টলিউডের একঝাঁক তারকার দরজায় কড়া নেড়েছে এসআইআর শুনানির নোটিস। তালিকায় রয়েছেন হালের জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যও।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার সময় তিনি ২০০২ সালের প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। অনির্বাণও আদতে মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সপরিবারে কলকাতায় থাকেন। এছাড়াও সোমবার সকালেই শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে দেখা গিয়েছে টলি-পাড়ার পরিচিত দম্পতি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লাবণী সরকারকে। শুনানি শেষে লাবণী সরকার জানান, এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া এবং তাঁরা এসে নির্দিষ্ট ফর্মে সই করেছেন। পুরনো সইয়ের সঙ্গে বর্তমানের সই মিলিয়ে দেখার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। টালিগঞ্জের প্রথম সারির শিল্পীদের এভাবে একের পর এক তলব করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক মহলে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্যের গরমিল থাকলেই এই ধরনের শুনানি হয়। কিন্তু দেবের মতো একজন হেভিওয়েট সাংসদকে যখন পরিবারের সদস্যসহ তলব করা হয়, তখন তার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। দেব বা তাঁর পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আপাতত রাজ্যবাসীর নজর দেবের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কবে সশরীরে হাজিরা দিয়ে কমিশনের প্রশ্নের মোকাবিলা করেন, সেটাই এখন দেখার।














