সেকেলে পিস্তল-ছুরি নয়, এখনকার অস্ত্র স্রেফ একটা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ। ডিজিটাল চোরেরা নিমেষে সাফ করছে আমজনতার কোটি কোটি টাকা। অপরাধীদের এই ভোলবদল দেখে এবার কোমর বাঁধল লালবাজার। সাইবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে কলকাতা পুলিশের অন্দরেই তৈরি হচ্ছে সাতটি বিশেষ ইউনিট। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই লালবাজারে শুরু হয়েছে তৎপরতা।
নতুন এই বিশেষ সেকশনগুলির মাথায় থাকছেন ইনস্পেক্টর এবং সাব ইনস্পেক্টর পদের দুঁদে কর্তারা। এর মধ্যে যেমন থাকছে আর্থিক জালিয়াতির টাকা উদ্ধারে দক্ষ ‘সাইবার ফ্রড রিকভারি সেকশন’, তেমনই নেটপাড়ায় নজরদারি চালাতে থাকছে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’। গত বছরই নবান্নে এই স্বতন্ত্র ইউনিটের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল লালবাজার। পুলিশ কমিশনার হিসেবে সুপ্রতিম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই পদক্ষেপে সিলমোহর পড়ল।
এদিকে খোয়ানো টাকা ফিরে পেতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে লালবাজার চালু করেছে হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০-৩৪৫-০০৬৬। ইতিমধ্যেই সেখানে অভিযোগের পাহাড়। সেই স্রোত সামলাতেই আলাদা সেকশনের প্রয়োজনীয়তা বেশি করে অনুভব করেন পুলিশকর্তারা। এক পুলিশকর্তার কথায়, ‘ওই নম্বরে কোনও গ্রাহক প্রতারিত বা ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে ফোন করলে তিনি সরাসরি পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। তাঁরা গাইড করবেন অভিযোগকারীদের। এর পরে, পরিস্থিতি বুঝে ওই ইউনিটের অফিসাররা তদন্ত করবেন।’
মূলত দ্রুত পদক্ষেপ করাই এই সাত বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। পরিসংখ্যান বলছে, অভিযোগ জানাতে দেরি হওয়ায় মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সিপি সুপ্রতিম সরকারের মতে, ‘গ্রাহকরা যদি দ্রুত অভিযোগ করেন, তাঁদের কী করবে হবে আমরা জানিয়ে দেবো। গায়েব হয়ে যাওয়া টাকা যাতে ফেরানো যায়, সেই চেষ্টাও হবে।’ হাইটেক অপরাধীদের রুখতে লালবাজারের এই নতুন সাত তলোয়ার এখন কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।















