Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

সুরের সম্রাট কিশোর কুমার: এক বর্ণময় জীবন কাহিনী

সুরের সম্রাট কিশোর কুমার: এক বর্ণময় জীবন কাহিনী

৪ আগস্ট ২০২৬। আজ কিশোর কুমারের জন্মদিন। ভারতীয় সিনেমার এই অসাধারণ শিল্পীর কথা মনে পড়লে মন ভরে যায়। তিনি শুধু গায়ক ছিলেন না। অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, সবকিছুতেই সমান দক্ষ ছিলেন। তাঁর মতো বহুমুখী শিল্পী খুব কমই দেখা যায়। কিশোর কুমারের জন্ম ১৯২৯ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায়। বাবা ছিলেন আইনজীবী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছোট। বড় ভাই অশোক কুমার তখনই নামকরা অভিনেতা। কিশোরের আসল নাম ছিল আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল গভীর। বড় ভাই চেয়েছিলেন তিনি অভিনেতা হোন, কিন্তু কিশোরের মন গানের দিকেই ঝুঁকেছিল।

বলিউডে তিনি শুরু করেন কোরাস গায়ক হিসেবে। প্রথম ছবি শিকারি। তারপর অনেক ছবিতে কাজ করেছেন। প্রথমে অনেক ছবি ফ্লপ হয়েছিল। পরে লড়কি আর বাপ রে বাপ ছবিতে সাফল্য পেয়ে সবাই তাঁকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। অভিনেতা হিসেবেও তিনি দারুণ ছিলেন। কিন্তু গানই ছিল তাঁর আসল পরিচয়।তিনি পর পর আটবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। এখনও কেউ সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। রূপ তেরা মস্তানা গানের জন্য প্রথম ফিল্মফেয়ার পান। তাঁর গানে ইয়োডেলিংয়ের ব্যবহার ছিল অসাধারণ। সেটা তিনি শিখেছিলেন বিদেশি শিল্পীদের থেকে। শচীন দেব বর্মনের পরামর্শে সেই স্টাইল তিনি নিজের করে নেন।রাজেশ খান্নার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি গান গেয়েছেন। তারপর দেব আনন্দ, জিতেন্দ্র আর অমিতাভ বচ্চন। একসময় অমিতাভের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। আনন্দ ছবির জন্য পরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর বিবাদ হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় তিনি এক সভায় গাইতে রাজি হননি। তার জন্য এক বছর রেডিও আর দূরদর্শন থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল ঘটনাবহুল। চারবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী রুমা গুহ ঠাকুরতা। তারপর মধুবালা। মধুবালাকে বিয়ে করতে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন। পরে যোগিতা বালি আর শেষে লীনা চন্দ্রভারকর। দুই ছেলে অমিত কুমার আর সুমিত কুমার দুজনেই গায়ক।জীবনের শেষ দিকে তিনি অনেক একা হয়ে গিয়েছিলেন। নিজেই বলেছেন একাকীত্বের কথা। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি চলে যান। কিন্তু তাঁর গান আজও মানুষের মনে বেঁচে আছে।

আজ ৪ আগস্ট ২০২৬। তাঁর জন্মদিনে আমরা শুধু স্মরণ করি না। আমরা তাঁর গান শুনি, হাসি, কাঁদি। তাঁর কণ্ঠে যেন এখনও সবকিছু জীবন্ত হয়ে ওঠে। কিশোর কুমার চলে গেছেন অনেকদিন আগে। কিন্তু তাঁর সুর, তাঁর হাসি, তাঁর অভিনয় আজও আমাদের সঙ্গে আছে। বাংলা আর হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর মতো শিল্পী আর কেউ হয়নি। আজকের দিনে তাঁকে স্মরণ করে আমরা নিজেদেরও একটু ভালোবাসি। কারণ তাঁর গান শুনলে মন হালকা হয়, জীবন সুন্দর লাগে। কিশোর কুমার শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না। তিনি ছিলেন আনন্দ, তিনি ছিলেন সুর, তিনি ছিলেন আমাদের সবার।

READ MORE.....