আলিপুর চিড়িয়াখানায় এক রহস্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে খাঁচার জলাশয় ছেড়ে ডাঙায় উঠছে না নন্দনকানন থেকে আসা তরুণ পুরুষ জলহস্তীটি। বড়দিনের আগে থেকেই তার এই অদ্ভুত আচরণে রীতিমতো দিশেহারা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সাধারণত জলহস্তীরা রোদ থেকে বাঁচতে দিনের বেলা জলে থাকলেও সন্ধে হলেই নিজেদের নাইট শেল্টার বা বিশ্রামাবাসে ফিরে যায়। কিন্তু এই আবাসিকটি খাওয়ার টানেও ডাঙায় উঠছে না, এমনকি রাতেও ফিরছে না নিজের ঘরে।
এই দীর্ঘকালীন ‘জলবন্দি’ দশা তার স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সেপ্টেম্বর মাসে ওড়িশার নন্দনকানন থেকে প্রজননের উদ্দেশ্যে একজোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল। আলিপুরে আসার কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রী জলহস্তীটির মৃত্যু হয়। সঙ্গিনীকে হারিয়ে প্রথম দিকে মুষড়ে পড়লেও পরে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল পুরুষটি। কিন্তু হঠাৎই এই স্বেচ্ছা নির্বাসন কেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল হয়তো পায়ে চোটের কারণে সে উঠতে পারছে না। রোগ নির্ণয়ের জন্য জলাশয়ের জল কমানো হলে জলহস্তীটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
ফলে তড়িঘড়ি ফের জল ভরতে বাধ্য হন কর্মীরা। চিড়িয়াখানার অধিকর্তা তৃপ্তি শাহ জানিয়েছেন যে প্রাণীটি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট রোগের নাম তিনি খোলসা করেননি। বর্তমানে জলের ধারেই তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সে সেভাবে কিছুই খেতে পারছে না। দীর্ঘক্ষণ জলে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে যদি শরীরে কোনও ক্ষত তৈরি হয়, তবে সেখানে পচন ধরার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে দুই টনের বেশি ওজনের শরীরটি জল থেকে টেনে তোলা হয়তো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আলিপুর চিড়িয়াখানার চিকিৎসার মান নিয়ে এমনিতেই ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। এর আগে দাঁতের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে ভুল ডোজের ইনজেকশনে এক জলহস্তীর মৃত্যু হয়েছিল।
গত কয়েক মাসে আলিপুরে তিনটি বাঘিনি এবং একটি কৃষ্ণসার মৃগের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে আলিপুরে এই অসুস্থ পুরুষটি ছাড়া কেবল একটি বৃদ্ধা স্ত্রী জলহস্তী রয়েছে। একের পর এক প্রাণীর অকালমৃত্যু এবং এই নতুন বিভ্রাট নিয়ে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে পরিবেশবিদদের মনে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। চিকিৎসাধীন থাকলেও জলের মধ্যে উপযুক্ত চিকিৎসা কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল আলিপুর কর্তৃপক্ষের সামনে। ফাইল ফটো ।













