Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

‘২০০ পার’ নয়, এবার ১৭৭-এ বাজি শুভেন্দুর—‘ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ’ তত্ত্বে জয়ের অঙ্ক

‘২০০ পার’ নয়, এবার ১৭৭-এ বাজি শুভেন্দুর—‘ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ’ তত্ত্বে জয়ের অঙ্ক

একুশের বিধানসভা ভোটে ‘অবকি বার ২০০ পার’ স্লোগান এবার অতীত। আসন্ন মহারণের আগে কার্যত মেপে পা ফেলছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রামনগরের জনসভা থেকে তিনি এক অভিনব সমীকরণ খাড়া করলেন। শুভেন্দুর দাবি, এবারের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ১৭৭-এর বেশি আসন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়বে। বালিসাই স্কুল ময়দানের কর্মিসভায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘২০১৬-তে ৩, ২০২১-এ ৭৭, এবারে ১৭৭-এর নীচে নামবে না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শুভেন্দুর এই ১৭৭-এর হিসেব অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

 

কীভাবে এই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানো সম্ভব, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক বিচিত্র ‘খাদ্য-তালিকা’ পেশ করেছেন শুভেন্দু। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে তিনি ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনারের রূপকে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ড অর্থাৎ ‘ব্রেকফাস্টে’ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ নাম। এরপর ‘লাঞ্চে’ গিয়েছে আরও ৭ লক্ষ। শুভেন্দুর নতুন সংযোজন হলো ‘সন্ধ্যাবেলার লিকার চা আর চিনাবাদাম’। তাঁর হিসেবে, ৩২ লক্ষের মধ্যে সেখান থেকেও আরও ১৪ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় ৭৯ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

পুরো বিষয়টি নিয়ে হেয়ালির সুর বজায় রেখে শুভেন্দু বলেন, ‘সমাজদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যয়! এর ৯০ শতাংশ ভোট তৃণমূল মেরে দিত।’ শুভেন্দুর এই গাণিতিক তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছ ভোটার তালিকা। তিনি মনে করেন, এক থেকে দেড় কোটি ভুয়া ভোটার বাদ গেলেই তৃণমূলের জয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, ‘২০১৬ এবং ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্জিন কত করবেন সেটা আপনারা ঠিক করবেন, কত বাড়াবেন।’

 

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই বাংলায় এসে ২০০ আসনের লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন। শাহর যুক্তি ছিল, গত নির্বাচনে প্রাপ্ত ৩৮ শতাংশ ভোটকে বাড়িয়ে ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশে নিয়ে যেতে পারলেই কেল্লাফতে হবে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এদিন শাহর সেই লক্ষ্যের সমান্তরালে নিজের ১৭৭-এর তত্ত্বে অনড় থাকলেন। মেদিনীপুর, তমলুক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন, এবার আর হাওয়া নয়, বরং পাটিগণিতের হিসেবেই ঘাসফুল শিবিরের মোকাবিলা করতে চাইছে পদ্ম শিবির। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘টি-টাইম’ ম্যাজিক বঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না।

READ MORE.....