৩ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা দুর্নীতির তদন্ত। শুক্রবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সিবিআই কে রীতিমতো সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এমন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি এবং ও এম আর কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলের আইনজীবীর দাবি ছিল, তদন্ত শ্লথ গতিতে চলছে। নিয়োগ মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, পার্থ জামিন পেলে, অয়ন কেন নয়? পাল্টা সিবিআইয়ের আইনজীবীর দাবি, তদন্ত চলছে সঠিক গতিতে ও নিয়ম মেনে।
১৬টির মধ্যে ১৫টি পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ। পাল্টা অয়নের আইনজীবীর প্রশ্ন, চার্জশিট কোথায়? এরপরই প্রথমে সিবিআইকে ৬ মাস সময় বেঁধে দেয় আদালত। অয়নের আইনজীবী বলেন, অনেক সময় লেগে যাবে। শেষে তিনমাস সময় বেঁধে দেয় আদালত। গত বছরের মার্চে পুরসভার নিয়োগ মামলায় ইডি অয়ন শীলকে গ্রেফতার করে। চলতি বছরের মার্চে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে পুর নিয়োগ মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।
১০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনের সঙ্গে একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিকের নিয়োগ মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত থাকায় জেলমুক্তি ঘটেনি। তদন্তকারীরাদের অভিযোগ, পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন অয়ন। শুধু তাই নয়, তাঁর বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ইডি উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ নথি, হার্ড ডিস্ক এবং ওএমআর শিটের ফোটো কপি। স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে হুগলির প্রোমোটার অয়ন শীলকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ওএমআর শিট উদ্ধার হয়। তখনই পুরসভায় নিয়োগেও দুর্নীতি সামনে আসে। হুগলির এই প্রোমোটার বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অয়নের সংস্থা পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআরের দায়িত্বে ছিল।
তারপর পুরসভায় নিয়োগেও গ্রেফতার করা হয় অয়নকে। জেরায় অয়ন নিজেও স্বীকার করেছিলেন, প্রার্থী প্রতি মোটা অঙ্ক কমিশন নিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদন খারিজ করতে চলেছেন জানতে পেরেই জামিনের আর্জি প্রত্যাহার করে নিলেন নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীল। শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নরসিমার ও বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি ছিল। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে হুগলির ব্যবসায়ীকে। পাশাপাশি, রাজ্যের ১৬টি পুরসভার নিয়োগ তদন্ত প্রক্রিয়া তিনমাসের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে সময় বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট।













