অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা বণ্টনে কোনও ধরনের ভুল রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। তাই শুধু অনুমোদিত আবেদন নয়, প্রাথমিকভাবে বাতিল হওয়া প্রতিটি আবেদনও নতুন করে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। মুখ্যসচিবের স্পষ্ট বার্তা, “যোগ্য কেউ যেন বাদ না পড়েন, আবার অযোগ্য কেউ যেন সরকারি সুবিধা না পান।” নবান্ন সূত্রের খবর, প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ আবেদন প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২৭ লক্ষ ৮৩ হাজার আবেদন বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করায় বাতিল করা হয়েছে। আয়কর প্রদান, নির্দিষ্ট সীমার বেশি পাকা বাড়ির মালিকানা-সহ একাধিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসন এখন সেই বাতিল তালিকাও পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। তদন্তের ফল নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে হবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুধু অনলাইন আবেদন নয়, অফলাইনে জমা পড়া সমস্ত আবেদনও দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সেগুলির অনুমোদন বা বাতিলের সুপারিশও পোর্টালে আপলোড করতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, আধার নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যাতে কোনও প্রকৃত উপভোক্তা বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
প্রয়োজন হলে দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ রয়েছে। এই প্রকল্পে আবেদন করার সময় পরিবারের সর্বাধিক চার সন্তানের টিকাকরণের তথ্য এবং তাঁরা কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, সেই তথ্যও বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হচ্ছে। সরকারের মতে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক সূচকের মূল্যায়নেও এই তথ্য কাজে লাগবে। অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় অনুমোদিত পরিবারগুলি প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে। পাশাপাশি রাজ্য পরিচালিত বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধাও মিলবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় যাচাই প্রক্রিয়াকে নির্ভুল রাখা এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই মাঠপর্যায়ে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।














