শুধু কমিশন গঠন নয়, এবার সেই কমিশনের কাছে পৌঁছনোর পথও নির্দিষ্ট করে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। কলকাতার হৃদয়ে হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে এমন এক প্রশাসনিক পরিকাঠামো, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের পৃথক তদন্ত একসঙ্গে এগোবে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অতীতের নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখার যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, এই পদক্ষেপকে তার বাস্তব রূপ বলেই মনে করা হচ্ছে। ময়দানের কাছাকাছি অবস্থিত সরকারি ভবনটি আগামী দিনে অভিযোগ গ্রহণ, সাক্ষ্য সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় সমস্ত প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে অভিযোগকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং তদন্তের গতি বাড়বে।
দুটি কমিশনের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে বিচার ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর সঙ্গে সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন অভিজ্ঞ পুলিশকর্তা কে. জয়রামন। অন্যদিকে মহিলাদের উপর সংঘটিত নির্যাতন, বঞ্চনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ভূমিকা পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন আইপিএস আধিকারিক দময়ন্তী সেন।
তবে পুরো উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত অন্যত্র। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক রাখতে চাইছে না সরকার। রাজ্যের প্রত্যন্ত প্রান্তের মানুষও যাতে সহজে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন, তার জন্য দূরবর্তী মাধ্যমেও অভিযোগ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, খুব শীঘ্রই নির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও অভিযোগ জানানো সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগের তাৎপর্য শুধু তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়। সরকার আসলে একটি বার্তা দিতে চাইছে— অতীতের অভিযোগগুলি আর কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে থাকবে না, সেগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এনে যাচাই করা হবে। ফলে এইচআরবিসি ভবনের কয়েকটি ঘর এখন শুধুই দপ্তর নয়; সেগুলি হয়ে উঠতে চলেছে বহু পুরনো অভিযোগ, ক্ষোভ এবং অমীমাংসিত প্রশ্নের সম্ভাব্য ঠিকানা। আগামী দিনে কত মানুষ সেই দরজায় কড়া নাড়েন, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে এই উদ্যোগের প্রকৃত গুরুত্ব।














