Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

আনন্দপুর : কাটছে না শনাক্ত-জট ১৬ দেহাংশ শনাক্ত, বেওয়ারিশ ৯টি

আনন্দপুর : কাটছে না শনাক্ত-জট ১৬ দেহাংশ শনাক্ত, বেওয়ারিশ ৯টি

অগ্নিকাণ্ডের বীভৎস স্মৃতি এখনো টাটকা। ঘটনার দীর্ঘ ২৬ দিন পর শনিবার শনাক্ত হওয়া ১৬টি দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। ডিএনএ পরীক্ষার জটিলতা কাটিয়ে এদিন কাঁটাপুকুর মর্গে পরিজনদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে এখনও ৯টি দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি ও ফরেনসিক জট কাটিয়ে আপাতত ১৬টি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। বাকি দু’টি দেহাংশ হস্তান্তর নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানার আনন্দপুরের দু’টি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। লেলিহান শিখা নিমেষেই কেড়ে নেয় বহু শ্রমিকের প্রাণ। তল্লাশি চালিয়ে যে দেহাংশগুলো উদ্ধার হয়েছিল, তা চেনার উপায় ছিল না।

 

ফলে ডিএনএ পরীক্ষাই ছিল একমাত্র পথ। শনিবার সকালে মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। মৃতদের অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এ ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়। সন্তান ও ভাইকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পূর্ব মেদিনীপুরের নিরঞ্জন মণ্ডল। ১৮ বছরের তরুণ পুত্র রামকৃষ্ণ মণ্ডলের দেহাংশ মিললেও ৩৯ বছরের ভাই গোবিন্দের ক্ষেত্রে ডিএনএ ‘ম্যাচ’ করেনি। শোকাতুর নিরঞ্জন বলেন, ‘ছেলের ডিএনএ-র সঙ্গে নমুনা ‘ম্যাচ’ করেছে। কিন্তু ভাইয়ের সঙ্গে ‘ম্যাচ’ হয়নি।’ ভাইয়ের ফেরার আশা তিনি ছেড়েছেন অনেক আগেই। আগামী ১৪ মার্চ দুই প্রিয়জনের শ্রাদ্ধের দিনও স্থির করে ফেলেছে পরিবার। পুলিশ সূত্রের খবর, নিখোঁজ ৯ জনের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

 

তাঁদের পরিজনদের ধৈর্য ধরার আর্জি জানিয়েছে প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চলেছিল। দগ্ধ দেহাংশগুলি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মিলল আংশিক সাফল্য। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থাও তাদের তিন কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কোথাও জেলাশাসক আবার কোথাও স্থানীয় নেতৃত্ব এই চেক পৌঁছে দিয়েছেন। তবে নিখোঁজদের মৃত্যু সরকারিভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই কেন ক্ষতিপূরণ বিলি করা হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। শোক আর বিতর্কের মাঝেই এদিন ১৬টি নিথর দেহাবশেষ রওনা দিল নিজেদের গ্রামের পথে। ছবি সংগৃহিত।

READ MORE.....