পঞ্চায়েত সদস্যদের বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণের উপহার, মোবাইল রিচার্জ থেকে পেট্রোল কেনা হচ্ছে সরকারি কোষাগারের টাকায়! ঠিক এমনটাই ধরা পড়েছে সিপিআইএম-এর করা আরটিআই রিপোর্টে, এ যেন একথায় পুরুলিয়ার পঞ্চায়েতে ‘লুঠ-উৎসব’! ভাবুন! গ্রামের এক ভ্যারাইটির দোকান থেকে পেট্রল কেনা হচ্ছে, প্রতি লিটার একশো চোদ্দো টাকা দরে! শুধু তাই নয়! পঞ্চায়েতের সদস্যের বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণের উপহার, মোবাইল রিচার্জ সবই হচ্ছে সরকারি কোষাগারের টাকায়! এভাবেই চলছিল জনগণের টাকা লুঠের উৎসব। মারাত্মক এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত ধেলাতবামু গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। তৃণমূল শাসিত এই পঞ্চায়েতে ১১ জন তৃণমূল সদস্য এবং দুজন বিজেপি সদস্য রয়েছেন। সেই পঞ্চায়েতে উঠল মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ।
আর এই লুঠের পর্দা ফাঁস করে সিপিএম। প্রথমে সিপিআইএম এর বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দেয়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায়, শেষমেশ আরটিআই। আর আরটিআই রিপোর্ট সামনে আসতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত প্রধান কবিতা মাহাতোর স্বামী প্রভাস চন্দ্র মাহাতো, তিনিই ঠিকাদারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকার কাজ করেছেন এবং টাকা তুলেছেন! এমজিএনআরইজিএস-র কাজের শ্রমিকদের কাগজপত্র সংগ্রহের নাম করেও বারবার টাকা তোলা হয়েছে। কর্মীর মোবাইলের রিচার্জ থেকে শুরু করে শীতবস্ত্র কেনা, সবই হয়েছে জনগণের টাকায়। এমনকি পঞ্চায়েত সদস্যদের গাড়ির তেল গ্রামের এক মনিহারি দোকান থেকে ১১৪ টাকা প্রতি লিটার কিনা হয়, যার আবার পঞ্চায়েতে বিলও আসে। আবার পঞ্চায়েত সদস্যদের বিয়ে বাড়ির নিমন্ত্রণের উপহারও কেনা হয় সরকারি কোষাগার থেকেই। আরটিআই-এর রিপোর্ট হাতে আসতেই গর্জে ওঠে সিপিএম। লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পুড়িয়ারা গ্রামে মিছিল ও পথসভা করে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। কিন্তু, এবিষয়ে প্রধান কবিতা মাহাতো সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে।
কিন্তু তাঁর স্বামীর জবাব? একেবারে সিনেম্যাটিক! যখন প্রভাস চন্দ্র মাহাতোকে তাঁর নামে ওঠা লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির কথা জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন ‘আমি কোনোদিন পঞ্চায়েতে কাজ করিনি। যে প্রবাস চন্দ্র মাহাতোর নামে টাকা তোলা হচ্ছে ওই প্রভাস চন্দ্র মাহাতো কে? আমি তাকে চিনি না। সিপিএম হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গ্রামের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামীদিনে আরও জোরালো প্রতিবাদ হবে। এখন প্রশ্ন, এই ১১৪ টাকার পেট্রল, আর বিয়েবাড়ির উপহারের আড়ালে জনগণের কত কোটি টাকা লুঠ হলো? ধেলাতবামু পঞ্চায়েতের এই ‘লুঠ-উৎসব’ কি বন্ধ হবে? অপেক্ষা সময়ের।















